


সংবাদদাতা, খড়্গপুর: নিজের মেজাজেই খড়্গপুর শহরে প্রচার শুরু করলেন দিলীপ ঘোষ। বুধবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ নিজের গাড়িতে করে খড়্গপুরের চৌরঙ্গিতে পৌঁছন তিনি। উচ্ছ্বসিত কর্মীরা বাজি ফাটিয়ে, গলায় রজনীগন্ধার মালা পরিয়ে প্রিয় দিলীপদাকে বরণ করে নেন। আর তারপরই চমক! বুলেট চালিয়ে খড়্গপুর শহরে প্রবেশ করেন বিজেপির এই বিতর্কিত নেতা। কর্মীরাও সঙ্গ দিলেন নেতার। যদিও, পুলিশ আর প্রশাসনের কড়া নজর ছিল দিলীপবাবুর বাইক মিছিলের উপর। বাইক চালিয়েই শহরের গোলবাজারের রামমন্দির সহ একাধিক মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন তিনি। যান জয়হিন্দ নগরের মাতা মন্দিরেও। কথা বলেন তেলুগু ভাষী মানুষদের সঙ্গে। মিনি ইন্ডিয়া খড়্গপুরের তেলুগু ভোট হাতছাড়া করতে রাজি নন তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকারও। দুপুরে দিলীপ পৌঁছনোর আগেই জয়হিন্দ নগরের ওই মাতা মন্দিরে গিয়ে নিজের হাতে প্রসাদ বিলি করেন তিনি।
মঙ্গলবার প্রার্থী হয়েই তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার নিজেকে ঘরের ছেলে বলে দাবি করেছিলেন। আর দিলীপ ঘোষকে দিয়েছিলেন বহিরাগত তকমা। বুধবার খড়্গপুর শহরে পৌঁছে পাল্টা জবাব দেন দিলীপবাবু। মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, দিলীপ ঘোষকে বহিরাগত বললে খড়্গপুরের মানুষ ক্ষমা করবে না। উল্লেখ্য, অবিভক্ত মেদিনীপুরের (অধুনা ঝাড়গ্রাম জেলার অন্তর্গত) গোপীবল্লভপুরের কুলিয়ানা গ্রামে জন্ম দিলীপ ঘোষের। তবে, ২০১৬ সালের বিধানসভায় কংগ্রেসের জ্ঞান সিং সোহনপালকে হারানোর পর থেকেই খড়্গপুর শহরই তাঁর গড় হয়ে গিয়েছে। থাকেন সাউথ সাইডের রেল বাংলোতে। শত বিতর্কের পরও ওই বাংলো ছাড়েননি দিলীপ। যদিও, বুধবারও প্রদীপ সরকার বলেন, উনি যতই চেঁচান না কেন, খড়্গপুরে উনি বহিরাগতই। আমি ঘরের ছেলে। ওঁর দল তো সেজন্যই ওঁকে বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে পাঠিয়ে দিয়েছিল! আবার কান্নাকাটি করে ফিরে এসেছেন।
দিলীপ-প্রদীপ বাগযুদ্ধের মধ্যেই বুধবার বোঝা গিয়েছে, দু’জনেরই নজর রেল শহর খড়্গপুরের তেলুগু ভোটের দিকে। রেলের সূত্রেই শহরের একটা বড় অংশের ভোটার তেলুগুভাষী। যদিও, এসআইআরের ফলে বহু তেলুগু ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। বৃহস্পতিবার ছিল সেই তেলুগু সম্প্রদায়ের নতুন বছর। বাঙালিদের নববর্ষের মতোই তেলুগুরা উদযাপন করেন ‘উগাদি’ (নতুন বছর) উৎসব। সেই উপলক্ষ্যেই বুধবার তেলুগুদের মাতা মন্দিরগুলিতে নানা আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। এদিন সকাল থেকেই খড়্গপুরের জয়হিন্দ নগর সহ একাধিক মাতা মন্দিরে পৌঁছে যান প্রদীপ সরকার। জনসংযোগ করেন। নিজের হাতে খাবার বিলিও করেন। পরে দুপুরের দিকে যান দিলীপ ঘোষও। তেলুগু সম্প্রদায়ের ডি সাবিত্রী, নাগমণি, ই রবিচন্দ্রন প্রমুখ বলেন, ওঁরা এসেছিলেন। তবে, সারা বছর ধরে যাঁরা আমাদের পাশে থাকেন, আমরাও তাঁদের পাশেই থাকব।-নিজস্ব চিত্র