নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: খানাকুলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করাই প্রধান লক্ষ্য দু’ বারের বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত ঘোষের। ২০২১ সালেও বিধানসভা নির্বাচনে খানাকুল থেকে জিতেছিলেন সুশান্তবাবু। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটেও খানাকুল ২ পঞ্চায়েত সমিতি বিজেপির দখলে আসে। একাধিক পঞ্চায়েতও গেরুয়া শিবিরের ঝুলিতে। সুশান্তবাবু জানান, বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যেটি মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সরকারকে পাঠানো হয়েছে। প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ হতে চলছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের ওই টাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে। জগৎপুর ও মারোখানা পঞ্চায়েত এলাকা পর্যন্ত রূপনারায়ণ নদের উপর বিশেষ গার্ডওয়াল নেই। তার ফলে রূপনারায়ণ নদে জল বাড়লে খানাকুল ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ অংশে জল ঢুকে পড়ে। তাই বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে রূপনারায়ণ নদের উপর গার্ডওয়াল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। নদীতে গার্ডওয়াল হলে বন্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে জল বিপুল পরিমাণ না বাড়লে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হবে না। বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা করে বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হবে।
বিধায়ক বলেন, খানাকুলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। ভালো রাস্তা নেই। নদীগুলির উপর বেশিরভাগ সেতুই হয় কাঠের নয়তো বাঁশের। তাই যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো করতে হবে। সেতুগুলি যাতে পাকা করা যায় সে চেষ্টা করা হবে। এছাড়া প্রস্তাবিত ‘গ্রিন ফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে’ তৈরি হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেকটাই পরিবর্তন হবে।
খানাকুলে বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজেপি বিধায়ক। তিনি জানিয়েছেন, খানাকুলের বিভিন্ন এলাকায় একটু মেঘ করলেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় সাত-আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। হাসপাতালগুলির পরিষেবাও তথৈবচ। এক্স রে, ইসিজির মতো ন্যূনতম পরীক্ষা হয় না। চিকিৎসক, নার্সের সংকট রয়েছে। খুব দুর্ভোগে পড়েন রোগীরা। বিশেষ করে মহিলাদের সমস্যায় পড়তে হয়। তাই হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো, স্বচ্ছতা সহ একাধিক বিষয় উন্নত করার ইচ্ছে আছে। খানাকুল থেকে আরামবাগ শহরের দূরত্ব বেশি হওয়ায় রোগীদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তাই রোগীদের চিকিৎসা যাতে খানাকুলেই করা যায় সেই চেষ্টা করব।
খানাকুল রাজা রামমোহন রায়ের জন্মভূমি। তাঁর জন্মস্থানকে ঘিরে সৌন্দর্যায়ন করাও আমাদের লক্ষ্য। পর্যটকদের জন্য ভালো মানের গেস্ট হাউস তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে রেল মানচিত্রেও খানাকুলকে যুক্ত করতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছি। বিধানসভার অধিবেশনেও সোচ্চার হব।