


নয়াদিল্লি: আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় বিধ্বস্ত ইরান। মৃত্যু হয়েছে সেদেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। কড়া নিরাপত্তার বলয় সত্ত্বেও কীভাবে খামেনেইকে হত্যা সম্ভব হল? জানা যাচ্ছে, ইজরায়েল এই অপারেশনে বিশেষ মিসাইল ব্যবহার করেছিল। অত্যাধুনিক এই মিসাইলের নাম ‘ব্লু স্প্যারো’। যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া হয় এই ক্ষেপণাস্ত্র। তারপর কয়েকশো কিলোমিটার উপরে উঠে তীব্র গতিতে নীচে নেমে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
গত শনিবার মার্কিন-ইজরায়েলের হানায় মৃত্যু হয় খামেনেইয়ের। জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন তেহরানের পাস্তুর স্ট্রিটের একটি ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন খামেনেই। আচমকা আছড়ে পড়ে ইজরায়েলের মিসাইল। কয়েক মিনিটের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এলাকা। কড়া নিরাপত্তায় মোড়া এই ক্যাম্পাসে অভিযান চালানো মোটেও সহজ ছিল না। তবে ‘ব্লু স্প্যারোর’ মতো মিসাইলের সে ক্ষমতা ছিল। এই মিসাইল ‘কোয়াজি-ব্যালিস্টিক’ গতিপথে চলে। অর্থাৎ এটি বায়ুমণ্ডলের স্তর ভেদ করে অনেকটা উপরে উঠে আবার ফিরে আসে। তারপর তীব্র গতিতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত হানে। মোটামুটি সাড়ে ৬ মিটার লম্বা এই মিসাইলের ওজন ১.৯ টন। প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। নিক্ষেপ করার ক্ষেত্রেও বিশেষ পদ্ধ্বতি মানতে হয়। সাধারণত এফ-১৫ যুদ্ধবিমান থেকে এটি নিক্ষেপ করা হয়। উৎক্ষেপণের পর একটি বুস্টার রকেট মিসাইলটিকে উপরের দিকে নিয়ে যায়। নির্দিষ্ট উচ্চতায় বুস্টার থেকে আলাদা হয় ওয়্যারহেড। তারপর দ্রুত গতিতে আবার বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং লক্ষ্যবস্তুর দিকে নেমে আসে। খাড়াই গতিপথের কারণে শত্রুপক্ষের এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থার নজর এড়াতেও সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র।
গত শনিবার সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিটে তেহরানে প্রায় ৩০টি মিসাইল আছড়ে পড়েছিল। এরইমধ্যে কয়েকটি ছিল ব্লু স্প্যারো। খামেনেইয়ের নির্দিষ্ট অবস্থান আগেই জানিয়েছিল ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা। তাঁর গতিবিধি নজরে রাখতে তেহরানের ট্রাফিক সিগনালের ক্যামেরাও মোসাদ হ্যাক করেছিল বলে বিভিন্ন সূত্রের খবর।