তিরুবনন্তপুরম: বাবা ও সন্তানদের নিয়ে ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ডে’ ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু এই পরিণতির কথা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি আরতি মেনন। পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ ভ্যালিতে জঙ্গি হামলায় বাবা এন রামচন্দ্রনকে হারিয়েছেন কেরলের কোচির এই বাসিন্দা। সেই ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা মনে পড়লেই আতঙ্কে কেঁপে উঠছেন তিনি। তবে সেইসঙ্গেই কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন পহেলগাঁওয়ের স্থানীয়দের প্রতি। আরতির কথায়, কাশ্মীরি ভাইদের জন্যই ফিরে আসতে পেরেছি।
ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন? আরতি বলছেন, বাবা ও সন্তানদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম ছবির মতো সুন্দর বৈসরণের সবুজ ঘাসের গালিচায়। সবাই মিলে আনন্দ করছিলাম। আচমকাই প্রবল আর্তনাদ কানে আসে। দ্রুত বুঝে যাই, জঙ্গি হামলা হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কাছেই একটি শৌচাগারে লুকিয়ে পড়ি। সেখান থেকেই আমাদের গাড়ির ড্রাইভারকে ফোন করি। কিন্তু নেটওয়ার্ক না থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। কিছুক্ষণ পর ওই শৌচাগার থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানের খোঁজ করতে শুরু করি আমরা। সেই সময় মোট ১০টি গুলির শব্দ কানে আসে। পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত জঙ্গিরা আমাদের ধরে ফেলে। বাবাকে কলমা পড়তে বলে তারা। কিন্তু তা না পারায় বাবাকে ওরা গুলি করে। আমার কোলেই বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আরতি বলেন, সেদিনের ওই স্মৃতি সারা জীবন দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে বেরাবে। তবে ওই ঘটনার পর গাড়ির ড্রাইভার সহ স্থানীয় মানুষ সব ধরনের সাহায্য করেন। খাবার, জামাকাপড় সহ প্রয়োজনীয় সব কিছুর ব্যবস্থা করেন তাঁরাই। কাশ্মীরি ভাইদের সাহায্য ছাড়া আমাদের পক্ষে কেরলে ফিরে আসা সম্ভব ছিল না।