নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রেমিকের সঙ্গে যোগসাজস করে নিজেরই আট বছরের সন্তানকে অপহরণ করানোর ঘটনায় ইতিমধ্যেই ঘোলা থানার পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে ডোমজুড়ের বাসিন্দা সঙ্গীতা সিং। তবে দাশনগর কিংবা ঘোলা নয়, ইতিপূর্বে প্রেমিক কৌশিক বসু নিজের প্রেমিকাকে ব্যবহার করে আরও অনেক জায়গায় এমন প্রতারণার কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে দাবি পুলিসের। বাটপারির ঘটনায় বহু কীর্তি রয়েছে কৌশিকের। সঙ্গীতার অস্বাভাবিক আচরণ নিয়েও নানা কথা বলছেন ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা।
পুরনো একটি প্রতারণার ঘটনায় সঙ্গীতা সিংকে গ্রেপ্তার করেছে ঘোলা থানার পুলিস। এদিকে, দক্ষিণেশ্বর থেকে সঙ্গীতার আট বছরের নাবালক ছেলেকে উদ্ধারের পর তার বয়ান নিয়েছে দাশনগর থানা। পুলিসের কাছে নাবালক ইতিমধ্যেই তাদের ফ্ল্যাটে কৌশিকের নিয়মিত উপস্থিতি ও অপহরণের নাটকের কথা জানিয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কৌশিকের ড্রাইভারকে আগে থেকেই চিনত ওই নাবালক। সেই ড্রাইভারকে দিয়ে অপহরণের নামে ‘প্রাঙ্ক’ করা হবে, এমনটাই বোঝানো হয়েছিল নাবালকে। এমন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড কৌশিক এর আগেও বহুবার ঘটিয়েছে বলে পুলিসের দাবি। এক সময় হাওড়ায় সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করত সে। প্রতারণা সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই ২০১৪ সাল নাগাদ কাজ চলে যায় তার। এরপর আইনজীবীদের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত কৌশিককে। কখনও আইনজীবী, আবার কখনও মুহুরি সেজে প্রতারণা করত সে। মূলত জগাছা এলাকায় বাড়ি হলেও দীর্ঘদিন ধরেই কৌশিক অন্যত্র থাকত। বিবাহ বিচ্ছেদের পর দুই ছেলেকে নিয়ে সঙ্গীতা ডোমজুড়ে চলে এলে তাদের সঙ্গে মাকড়দহের ফ্ল্যাটে এসে মাঝে মাঝেই থাকত কৌশিক।
এদিন সঙ্গীতার ওই ফ্ল্যাটে গেলে তাদের ব্যবহার সম্পর্কে বলেন অনেকেই। প্রতিবেশীদের দাবি, মাঝেমধ্যে কৌশিককে ফ্ল্যাটে দেখা গেলেও অনেক সময় সন্ধ্যার পর অচেনা যুবকরা আসত। একেক দিন একেকজন আসত। প্রতিবেশীদের কথায়, গত দেড় মাসে বেশ কয়েকবার তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়েছে সঙ্গীতার। মাঝেমধ্যেই সে দুই ছেলেকে ফ্ল্যাটে আটকে রেখে বাইরে চলে যেত। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফ্ল্যাটেই বন্ধ অবস্থায় থাকত দুই ছেলে। বাইরে থেকে তাদের কান্নাকাটির আওয়াজ শোনা যেত। হাওড়া সিটি পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ‘বহু প্রতারণা ও হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের ঘটনায় প্রেমিকা সঙ্গীতাকে ব্যবহার করেছে কৌশিক। গত শুক্রবারের অপহরণের নাটকও ছিল তেমনটাই। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে।’