


বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: সৈয়দ আনাম। বয়স মাত্র ছয়। বদগাঁওয়ের কোনো অজানা গ্রামে বাড়ি। ভালোবেসে যে যা দেয় জমিয়ে রাখে পিগি ব্যাংকে। সঞ্চয় বলতে ওটুকুই। গত শনিবার ইদের দিন স্থানীয় মসজিদে গিয়ে ওই সঞ্চয় এক স্বেচ্ছাসেবকের হাতে তুলে দেয় আনাম। বলে, ‘এটা ইরানের জন্য। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পাশে দাঁড়াতে এমনই টুকরো টুকরো দৃশ্য ধরা পড়ল কাশ্মীরে। সামর্থ্য অনুযায়ী অনেকেই দান করছেন।
বদগাঁও, বারামুল্লার মতো এলাকার মসজিদগুলিতে গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে ত্রাণ সংগ্রহের কাজ। এখানে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ সংখ্যায় বেশি। তাদের অনেকেই নিয়মিতভাবে কিছু না কিছু রেখে যাচ্ছেন মসজিদে। নগদ টাকা, গয়না, বাসনপত্র, এমনকি গবাদি পশুও দান করছেন অনেকে। স্বেচ্ছাসেবকদের মতে, এই উদ্যোগে সমাজের সব বয়স ও শ্রেণির মানুষ অংশ নিচ্ছেন। বাদ নয় খুদেরাও। আনামের মতো অনেকেই হাজির হচ্ছে তাদের পিগিব্যাংক নিয়ে। আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হানায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই কাশ্মীরের বাসিন্দাদের আবেগ আরও তীব্র হয়েছে। যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এই ধরনের উদ্যোগে।
এই সাহায্যে আপ্লুত ইরান। তাদের বার্তা, ‘এই সাহায্য ভোলার নয়’। এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে ইরানের দূতাবাস এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছে। তারা জানিয়েছে, কাশ্মীরের এক মহিলা তাঁর প্রয়াত স্বামীর স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রাখা সোনাও দান করেছেন। ত্রাণসামগ্রীর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ইরানের দূতাবাস। সংগ্রহকারীরা জানিয়েছেন, এই সমস্ত দান সরকারি ত্রাণ ব্যবস্থার মাধ্যমে, বিশেষ করে ইরানের দূতাবাসের সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।