নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাশীপুর উদ্যান বাটির কাছে বৃহস্পতিবার ভোররাতে নির্মীয়মাণ বহুতলে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ নাবালককে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রেপ্তারও করা হয় তিনজনকে। লুট হওয়া সামগ্রীর আংশিক উদ্ধার হয়েছে। বিতর্ক এড়াতে এই ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন করেছে লালবাজার। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান তথা অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল শুক্রবার এই খবর জানিয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে সিটের সদস্যরা জানতে পেরেছেন, ‘সেই রাতে নৌকায় গঙ্গা পেরিয়ে এসেছিল ১০ থেকে ১২ জনের ডাকাত দল। কাশীপুর থানার ১ নম্বর রুস্তমজি পার্সি রোডে নির্মীয়মাণ সাইটে জোর করে ঢুকে, তারা নিরাপত্তারক্ষীদের রুম লক্ষ্য করে বিনা প্ররোচনায় এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। পালটা গুলি চালান সাইটের দুই বেসরকারি রক্ষীও। মোট ১০ রাউন্ডের মতো গুলি চলেছে।’
সাইটের ম্যানেজার দেবাশিস নাথ পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, ডাকাত দল তাঁদের সাইট থেকে অ্যালুমিনিয়াম প্যানেল, টিএমটি স্টিল, লোহার রড, কংক্রিটের পাইপ, ইলেকট্রিকের পাইপ মিলিয়ে প্রায় ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকার সামগ্রী লুট করে পালিয়েছে। ডাকাতি খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে আসেন ডিউটি অফিসার।
কিন্তু থানা এলাকায় এত বড়ো ঘটনা ঘটে গেলে, কাশীপুর থানার ওসি সুদীপ্ত দাস বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কিছুই জানাননি বলে অভিযোগ। ফলে লালবাজারের ডাকাতি দমন শাখার গোয়েন্দারা তদন্তে নামতে পারেননি। বিকেলে অন্য এক সূত্র মারফত খবর পেয়ে ডিসি (নর্থ) সায়ক দাস ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ডিসি নিজে নিরাপত্তারক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পাশাপাশি খতিয়ে দেখা হয়, সিসিটিভি ফুটেজও। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ সিপি অজয় নন্দা রাতেই কাশীপুর থানার ওসি সুদীপ্ত দাসকে স্পেশাল ব্রাঞ্চে বদলি করেন।
ভোররাতে কলকাতা শহরের বুকে এতবড়ো ডাকাতির ঘটনা ঘটে গেলেও, কাশীপুর থানা থেকে কলকাতা পুলিশের কর্তারা বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমের কাছে চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বৃহস্পতিবার রাতে ডিসি (নর্থ) সায়ক দাস, গোয়েন্দা প্রধান কুণাল আগরওয়াল এবং কলকাতার সিপি অজয় নন্দাকে বারবার ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁরা কিছুই জানাননি।