Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তিস্তাপাড়ের কাশবন এখন শ্যুটিং স্পট, সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু প্যাকেজ

মাঝেমধ্যে বৃষ্টি কিছুটা তাল কাটলেও ভাটা পড়ছে না উৎসাহে। তিস্তানদীর চরে শুভ্র কাশবন এখন হয়ে উঠেছে সেলফি জোন, শ্যুটিং স্পট।

তিস্তাপাড়ের কাশবন এখন শ্যুটিং স্পট, সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু প্যাকেজ
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২০:০৯

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: মাঝেমধ্যে বৃষ্টি কিছুটা তাল কাটলেও ভাটা পড়ছে না উৎসাহে। তিস্তানদীর চরে শুভ্র কাশবন এখন হয়ে উঠেছে সেলফি জোন, শ্যুটিং স্পট। দলে দলে ভিড় জমাচ্ছে নতুন প্রজন্ম। অনেকে আবার আগমনীর সাজে নদী ও কাশবনকে পিছনে রেখে রিল বানানোর সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না। প্রফেশনাল ফটোগ্রাফাররা লাইট, ক্যামেরা, ছাতা নিয়ে প্রস্তুত। কাশবনের মাঝে তিস্তার বিশাল ক্যানভাসে চাহিদা অনুযায়ী উঠছে ছবি, রেকর্ড হচ্ছে ভিডিও। তারপর তা আপলোড হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে পেশাদার ফটোগ্রাফার দিয়ে রিল বানাতে গেলে বেশ ভালোই খরচ করতে হচ্ছে।

Advertisement

জলপাইগুড়িতে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করা সায়নী চন্দ বলেন, অনেক বাবা, মা তাঁদের মেয়েকে দুর্গা সাজিয়ে শ্যুটিং করাতে চাইছেন। আমরা ভালোই বুকিং পাচ্ছি। রিল বানাতে সাড়ে তিন হাজার টাকা নিচ্ছি আমরা। তবে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত প্যাকেজ রয়েছে আমাদের। 

সকাল হলেই বাইক, স্কুটার নিয়ে ছেলেমেয়েরা হাজির হচ্ছে তিস্তার বাঁধে। অনেক মা, বাবা তাঁদের কন্যাসন্তানকে মা দুর্গার সাজে  সাজিয়ে নিয়ে আসছেন তিস্তাপাড়ে। নদীর মূল গতিপথ থেকে চরে আসা জলধারায় নামানো হচ্ছে ছাউনি দেওয়া নৌকা। অনেকে আবার ওই নৌকায় বসে বা দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে পছন্দ করছে।  ‘লাইট-ক্যামরা-অ্যাকশন’ বলা মাত্রই শুরু হয়ে যাচ্ছে শ্যুটিং। তিস্তাপাড়ে বহু মানুষের সমাগমকে সামনে রেখে বসেছে মুখোরোচক খাবারের দোকান। শ্যুটিং শেষে ছবি শিকারিরা ভিড় জমাচ্ছেন সেসব দোকানে। ভালোই হচ্ছে বিক্রিবাটা।

জলপাইগুড়িতে তিস্তাপাড়ে এলে আপনার মনে পড়ে যেতেই পারে ‘পথের পাঁচালি’র সেই দৃশ্য। কাশবনের মাঝখান দিয়ে দিদির হাত ধরে রেলগাড়ি দেখতে ছুটছে অপু। তবে এখানে রেলগাড়ি নেই। আছে তিস্তা। কদিন আগেই খরস্রোতা এই নদী হয়ে উঠেছিল ভয়ঙ্কর। এখন সে অনেকটাই শান্ত। ব্যাকগ্রাউন্ডে বিশাল তিস্তা কখনওবা কাশবন রেখে সেলফিতে মেতে উঠছে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। একটু তফাতে দেখা মিলছে বয়সে বড়দের। তিস্তাপাড়ের কাশবনকে সাক্ষী রেখেই জমে উঠছে যুগলের ‘মধুর আলাপ’ কিংবা খুনসুটি।

তিস্তাপাড়ে সেলফিতে মজেছিলেন কলেজ ছাত্রী ঈপ্সিতা রায়। জলপাইগুড়ি শহরের মেয়ে। বললেন, সারাবছর এই সময়টার জন্যই অপেক্ষা করে থাকি। শরৎ এলেই তিস্তাপাড়ে কাশবন এক মোহময়ী পরিবেশ তৈরি করে। এর হাতছানি উপেক্ষা করা সহজ নয়। অঙ্কিতা মজুমদার বললেন, বয়ফ্রেন্ডকে সঙ্গে আনতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। নদীপথজুড়ে এখন শুধুই মন ভালো করে দেওয়া কাশফুল। প্রকৃতির ক্যানভাসে ভালোবাসার এ এক অন্য অনুভূতি। তিস্তার চর আক্ষরিক অর্থেই অন্তত কিছুটা সময় নিজের মতো করে কাটানোর জায়গা।

তবে এই সেলফি জোন, রিলের শ্যুটিংয়ের মাঝেই তিস্তাপাড়ে এখন আরও এক খুশির আবহ। বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও নিজেদের মতো করে ‘ঘরের মেয়ে’ উমার আবাহনে মাততে চলেছেন বাঁধের বাসিন্দারা। চলছে মণ্ডপ তৈরির কাজ। প্যান্ডেলে বাঁধা বাঁশে খুদেদের দিনভর দস্যিপানা দূরে ঢাকিপাড়ায় মহড়া আক্ষরিক অর্থেই জানান দিচ্ছে পুজো আসছে।

সম্পর্কিত সংবাদ