নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কসবার হালতুতে এক পরিবারের তিন জনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার ঘটনায় গ্রেপ্তার বেড়ে হল ৩। বৃহস্পতিবার সকালে চঞ্চল মুখোপাধ্যায় নামের আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কসবা থানার পুলিস। সূত্রের খবর, এই ব্যক্তি কমিশনের বিনিময়ে ব্যাঙ্কের লোন পাইয়ে দিয়েছিল মৃত সোমনাথ রায়কে। অভিযোগ, তারপরেই কিস্তির জন্য হুমকি, অপমানজনক কথা বলেছিল সোমনাথকে। এদিন ওই ব্যক্তিকে আলিপুর পুলিস কোর্টে তোলা হয়। বিচারক তাকে ১২ মার্চ পর্যন্ত পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার সকালে হালতুর পূর্ব পল্লি এলাকায় বাড়ির দরজা ভেঙে উদ্ধার হয় স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ। স্বামী সোমনাথ রায়ের বুকে বাঁধা ছিল আড়াই বছরের শিশুসন্তান রুদ্রনীলের দেহ। ময়না তদন্তের রিপোর্ট বলছে, শিশুসন্তানকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল। তারপরেই বাবা-মা গলায় দড়ি দেন। তাঁদের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে দেওয়াল জুড়ে লেখা ছিল পাঁচ জনের নাম। তার মধ্যে মামা প্রদীপ ঘোষাল ও মামি নীলিমা ঘোষালকে আগেই গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। এবার ওই দেওয়ালে লেখা বাকি তিনজনের মধ্যে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করল কসবা থানার পুলিস। সূত্রের খবর, কসবার বাসিন্দা এই চঞ্চল বুধবার সন্ধ্যায় বাড়িতেই ছিলেন। পুলিস সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে। সূত্রের খবর, কমিশনের বিনিময়ে কয়েক লক্ষ টাকার লোন সোমনাথকে পাইয়ে দিয়েছিল এই ব্যক্তি। নিজের কমিশনের দু’লক্ষ টাকা কেটে নিয়েই ঋণের টাকা সোমনাথের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অটোচালক সোমনাথ কিস্তি শোধ করতে পারছিলেন না। সূত্রের খবর, গড়িয়াহাট-রামলাল বাজার রুটে একটি অটো ছিল বছর চল্লিশের সোমনাথের। সেই অটো চালানোর জন্য চালক নিয়োগ করেছিলেন তিনি। প্রতিদিন সাড়ে তিনশ টাকা পেতেন সোমনাথ। ঋণের কিস্তি না পেয়ে সোমনাথকে হুমকি দেওয়া শুরু করেছিল চঞ্চল। প্রশ্ন উঠছে, সেই হুমকি, অপমানজনক কথা সহ্য না করতে পেরেই কি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন রায় পরিবার? সোমনাথের স্ত্রী সুমিত্রা রায়ের বোনের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। রায় পরিবারের দেওয়ালে লেখা পাঁচ নামের মধ্যে আরও দু’জনকে খুঁজছে পুলিস। তদন্তকারীদের অনুমান, ওই দু’জন শহরের বাইরে চলে যেতে পারে। ঠিক কত টাকার কতগুলি ঋণ কী শর্তে সোমনাথকে দেওয়া হয়েছিল, সেইসব প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে পুলিস।
এদিন চঞ্চলকে আদালতে তোলা হলে, তার আইনজীবী বলেন, লোন এজেন্টের কাজ করতেন এই ব্যক্তি। অবশ্য তার জামিনের আবেদন করা হয়নি। বিচারক ১২ মার্চ পর্যন্ত তাকে পুলিস হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। - নিজস্ব চিত্র