নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কসবায় মডেল ধর্ষণ কাণ্ডে নয়া মোড়! অতীতেও বারেবারে বিভিন্ন থানায় যৌন নিগ্রহের অভিযোগ করেছেন সন্তোষপুর অ্যাভিনিউয়ের বাসিন্দা এই নির্যাতিতা। কসবার আগে ওই মডেল ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, কটূক্তি, শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন বলে পুলিসের খাতায় অভিযোগ রয়েছে। কসবা ধর্ষণ কাণ্ডের তদন্তে নেমে এই সংক্রান্ত একগুচ্ছ তথ্য হাতে এসেছে কলকাতা পুলিসের। তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
কলকাতা পুলিসের এক সূত্র জানাচ্ছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রবীন্দ্র সরোবর থানার দক্ষিণ কলকাতার কেয়াতলাতে এক প্রযোজনা সংস্থার অফিসে ওই মডেল ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ঘটনার পর তাঁর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণের মামলা দায়ের করে অভিযুক্ত সৌম্যজিত আদককে গ্রেপ্তার করেছিল রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিস। আবার, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার যাদবপুর থানাতে ওই মডেল এক প্রযোজনা সংস্থার কয়েকজনের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও কটূক্তির অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এই মামলার তদন্ত এখনও চলছে বলেই কলকাতা পুলিস জানিয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৪ সালে সন্তোষপুরে কেনাকাটা করার সময় বচসার জেরে এক সবজি দোকানদারের বিরুদ্ধেও কসবার এই নির্যাতিতা সার্ভে পার্ক থানায় কটূক্তির মামলা দায়ের করেছিলেন। কলকাতা পুলিসের ওই সূত্রের দাবি, কসবা, রবীন্দ্র সরোবর, যাদবপুর ছাড়াও রিজেন্ট পার্ক, সার্ভে পার্ক থানা মিলিয়ে কসবার নির্যাতিতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শহরে মোট ছ’টি মামলা দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতা পুলিসের নিচুতলার একাংশ এই নির্যাতিতার আচরণে রীতিমতো বিরক্ত। কারণ, কোনও মামলাতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার না হলে, সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে তিনি শীর্ষকর্তাদের কাছে অভিযোগ দায়ের করতেন।
এদিকে, কসবার অভিজাত হোটেলে প্রায় দুবছর আগের ধর্ষণের তদন্তে নেমে নির্যাতিতা মডেলের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি লক্ষ্য করেছে পুলিস। বিশেষ করে, একবার কলকাতার হোটেলে ধর্ষণের পর অভিযুক্তদের সঙ্গে কেন মন্দারমণির হোটেলে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিস নির্যাতিতাকে নিয়ে রুবি মোড়ের সেই অভিজাত হোটেলে গেলেও, অপরাধের স্থান হিসেবে তিনি হোটেলের সেই রুমটি চিহ্নিতই করতে পারেননি বলেই জানা গিয়েছে।