নয়াদিল্লি: অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। রবিবার ফিরোজ শাহ কোটলায় টানটান উত্তেজনার মধ্যে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ১২ রানে হারাল তারা। অক্ষর প্যাটেলদের এটা প্রথম পরাজয়। হারের ফলে দ্বিতীয় স্থানে নেমে এল দিল্লি। অন্যদিকে, হার্দিক পান্ডিয়াদের এটা দ্বিতীয় জয়। মুম্বই উঠল সপ্তম স্থানে।
২০৬ রানের টার্গেট তাড়া করে ক্যাপিটালসের ‘ইমপ্যাক্ট সাব’ করুণ নায়ার যেভাবে খেলছিলেন, তাতে অবশ্য দিল্লির জয়কেই দেখাচ্ছিল নিশ্চিত। আইপিএলের চলতি আসরে এদিনই প্রথমবার ব্যাট হাতে নামেন তিনি। ওপেনার জেক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ক ইনিংসের প্রথম বলেই আউট হওয়ায় ক্রিজে আসেন করুণ। ট্রেন্ট বোল্ট, যশপ্রীত বুমরাহর বিরুদ্ধে মারমার কাটকাট মেজাজে মাত্র ২২ বলে পঞ্চাশে পৌঁছান তিনি। সাত বছর পর এই আসরে হাফ-সেঞ্চুরি এল তাঁর। ৪০ বলে তাঁর ৮৯ রানের ইনিংস হয়ে থাকল যাবতীয় অবিচারের জবাব। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত ধারাবাহিকতা সত্ত্বেও জাতীয় দলে ডাক না পাওয়া, আগের চার ম্যাচে দিল্লির ডাগ আউটে বসে থাকা— সবকিছুকেই যেন গ্যালারিতে পাঠালেন করুণ। কিন্তু ১২টা চার ও পাঁচটা ছক্কায় সাজানো ইনিংসে দাঁড়ি পড়তেই থমকে গেল হোমটিম। ১১৯-১ থেকে ১৯ ওভারে ১৯৩ রানে শেষ হল দিল্লি। দ্বিতীয় উইকেটে অভিষেক পড়েলের সঙ্গে করুণের ১১৯ রান ছাড়া আর কোনও জুটিই তৈরি হল না। অভিষেক ২৫ বলে করলেন ৩৩। লোকেশ রাহুল (১৫), অক্ষর (৯), ট্রিস্টান স্টাবস (১) ব্যর্থ। ১৯তম ওভারে শেষ তিন বলে রান আউট হলেন আশুতোষ শর্মা (১৭), কুলদীপ যাদব (১) ও মোহিত শর্মা (০)। মুম্বইয়ের সফলতম বোলার ‘ইমপ্যাক্ট সাব’ কর্ণ শর্মা (৩-৪৬)। মিচেল স্যান্টনার (২-৪৩), দীপক চাহার (১-২৪), বুমরাহও (১-৪৪) উইকেট পেলেন।
তবে রোহিত শর্মাকে নিয়ে চিন্তা থেকেই গেল। এদিন আরও একবার হতাশ করলেন হিটম্যান। ১২ বলে ১৮ রানে ফেরেন তিনি। বিপরাজ নিগমের বলে এলবিডব্লু হন ৩৭ বছর বয়সি। কোটিপতি লিগের চলতি আসরে পাঁচ ইনিংসে রোহিতের সংগ্রহ মোটে ৫৬। গড় রীতিমতো লজ্জাজনক, ১১. ২০। ক্রমাগত ব্যর্থতা কিন্তু রোহিতকে নিয়ে চর্চা বাড়াচ্ছে। তিলক ভার্মা, সূর্যকুমার যাদব, রায়ান রিকেলটন, নমন ধীর অবশ্য রান পেলেন। তবে তিলক ছাড়া কেউই পঞ্চাশের গণ্ডি টপকাতে পারেননি। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দলগত প্রচেষ্টাতেই পাঁচ উইকেটে ২০৫ তোলে মুম্বই। তিলক ৩৩ বলে করেন ৫৯। রিকেলটন (৪১), সূর্য (৪০), নমনও (৩৮ নট আউট) অবদান রাখেন। দিল্লির সফলতম বোলার কুলদীপ যাদব (২-২৩)।