


সিনেমার সমালোচনা
কর্তব্য
সইফ আলি খান • রসিকা দুগ্গল
সঞ্জয় মিশ্র • যুধবীর আহলওয়াত
হরিয়ানার এক কাল্পনিক শহর ঝামলি। একদিকে অপরাধ, জাতপাত, অন্ধ ধর্মবিশ্বাস আর খাপ পঞ্চায়েতের ঘেরাটোপ। অন্যদিকে সেই বিষাক্ত সমাজের মাঝে আটকে পড়া পুলিশ অফিসার পবন মালিক। সে ক্লান্ত, অবসন্ন। তা সত্ত্বেও নিজের দায়িত্ব পালনে অবিচল। ক্ষয়ে যাওয়া সমাজে পবনের টানাপোড়েনই পুলকিত পরিচালিত ‘কর্তব্য’ ছবির প্রেক্ষাপট। শাহরুখ খানের ‘রেড চিলিজ এন্টারটেনমেন্ট’-এর এই ছবি কোনো ‘নায়কোচিত কপ ড্রামা’ নয়। বরং ১ ঘণ্টা ৪৮ মিনিটের এই সিনেমা একাকী পুলিশ অফিসারের নৈতিকতার লড়াই।
ছবির শুরুটা টানটান। সাংবাদিক খুনের তদন্ত দিয়ে শুরু হয় গল্প। স্থানীয় প্রভাবশালী ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিখোঁজ কিশোরদের রহস্য— সব মিলিয়ে প্রথম একঘণ্টা অ্যাড্রিনালিন রাশ বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে পবনের (সইফ আলি খান) ব্যক্তিগত জীবনের সংকটও সামনে আসে। তার ভাই ভিনজাতের তরুণীকে বিয়ে করেছে। পারিবারিক, সমাজের চাপ ও পেশাগত দায়বদ্ধতা— দুই সমান্তরাল গল্প ছবিকে গভীরতা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সমস্যার সূত্রপাতও এখানে। দু’টি গল্প আলাদাভাবে আকর্ষণীয়, এ কথা অস্বীকার করার জায়গা নেই। তবে দু’টিকে একসঙ্গে বাঁধতে গিয়ে বারবার দিশা হারিয়েছে চিত্রনাট্য। মনে হবে, দু’টি ভিন্ন শর্টফিল্মকে জোর করে একসঙ্গে গেঁথে দেওয়া হয়েছে।
তবুও শেষপর্যন্ত ছবিটা দেখতে হবে সইফ আলি খানের জন্যই। তিনিই এ ছবির মেরুদণ্ড। অতিরিক্ত চিৎকার নেই, নাটকীয় সংলাপের বহরও কম। ক্লান্ত চোখে, চাপা রাগ আর ভিতরের ভাঙন দিয়েই চরিত্র সাজিয়েছেন সইফ। অনেক দৃশ্যে কেবল তাঁর মুখের অভিব্যক্তিই দৃশ্যের আবেগকে ধরে রেখেছে। ‘স্যাক্রেড গেমস’ সিরিজের সারতাজ সিংয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে পবন মালিক। তবে এখানে সইফ আরও নিঃসঙ্গ। পরিণত। রসিকা দুগ্গল স্বল্প উপস্থিতিতেও নজর কাড়েন। সঞ্জয় মিশ্র দক্ষ অভিনেতা। চরিত্রের প্রতি সুবিচার করেছেন তিনি। কিশোর যুধবীর আহলওয়াতের অভিনয় অসাধারণ। তাঁর অভিব্যক্তি, কান্না দীর্ঘদিন মনে থাকবে। তবে সৌরভ দ্বিবেদীর আনন্দ শ্রী চরিত্রটি নিয়ে যে আশা ছিল, তা পূরণে ব্যর্থ। ‘আশ্রম’-এর মতো একাধিক সিরিজ, ছবিতে ধর্মগুরুর আড়ালে অপরাধের চক্র দেখেছেন দর্শক। ফলে এই প্রেক্ষাপট অত্যন্ত পরিচিত। তা সত্ত্বেও যে মানসিক জটিলতা বা গভীরতার প্রয়োজন ছিল, চিত্রনাট্য সেই পথে হাঁটেনি। স্বতন্ত্র কিছুও করার চেষ্টা করেনি। কাস্টিং হোক বা ক্যামেরার কাজ, ছবিজুড়ে সম্ভাবনা প্রচুর থাকলেও আশাপূরণ হল না।
শান্তনু দত্ত