Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

করিমপুরের জুনিয়র বালিকা বিদ্যালয়ে শ্রেণি ৪টি, ঘর ৩টি, সমস্যায় ছাত্রীরা

স্কুলে চারটি শ্রেণি রয়েছে। আর ঘর রয়েছে তিনটি। মাস খানেক আগে দু’জন স্থায়ী শিক্ষক স্কুলে আসায় দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট কিছুটা মিটেছে

করিমপুরের জুনিয়র বালিকা বিদ্যালয়ে শ্রেণি ৪টি, ঘর ৩টি, সমস্যায় ছাত্রীরা
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: স্কুলে চারটি শ্রেণি রয়েছে। আর ঘর রয়েছে তিনটি। মাস খানেক আগে দু’জন স্থায়ী শিক্ষক স্কুলে আসায় দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট কিছুটা মিটেছে। কিন্তু, ঘরের অভাবে প্রতিদিন সমস্যায় পড়তে হয় করিমপুর-২ ব্লকের শিশা জুনিয়র বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও শিক্ষকদের। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, চারটি শ্রেণির জন্য ঘর রয়েছে মাত্র তিনটি। ফলে বাধ্য হয়ে একটি শ্রেণির পঠনপাঠন চলে বারান্দায়। শিক্ষকদের বসার জন্যও পৃথক কোনো ঘর নেই। স্থানীয়রা জানান, ২০১৮ সালে এলাকার মেয়েদের পড়াশোনার জন্য শিশা গ্রামে এই স্কুল তৈরি হয়। বর্তমানে এই স্কুলে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১২৬ জন ছাত্রী রয়েছে। তারমধ্যে পঞ্চম শ্রেণিতে ৩৩ জন, ষষ্ঠে ৪১ জন, সপ্তমে ২৯ জন এবং অষ্টমে ২০ জন ছাত্রী রয়েছে। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, আগে তিনজন অতিথি শিক্ষক ছিলেন। মাস খানেক আগে দু’জন স্থায়ী শিক্ষক যোগ দিয়েছেন। তবে তিনজন অতিথি শিক্ষকের মধ্যে মাঝে মাঝেই দু’জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে শিক্ষক-সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি। এই স্কুলের সবচেয়ে বড় সমস্যা পরিকাঠামো। চারটি শ্রেণি থাকলেও ঘর মাত্র তিনটি। ফলে একই সময়ে চার শ্রেণির ক্লাস চালানো সম্ভব হয় না। একটি ক্লাসের ছাত্রীদের বারান্দায় পড়াতে হয়। বর্ষাকালে বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এই সমস্যা আরও বাড়ে। পাশাপাশি শিক্ষকদের বসা, নথিপত্র রাখা এবং প্রশাসনিক কাজের জন্যও আলাদা ঘর নেই। আবার মিড ডে মিল খেতে হয় বারান্দায় বসে। 
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, করিমপুর-২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় মেয়েদের উচ্চ বিদ্যালয়ের সংখ্যা কম। ফলে শিশা জুনিয়র বালিকা বিদ্যালয় বহু পরিবারের  ভরসা। তাঁদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকায় ছাত্রীদের স্বাভাবিক পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে। অভিভাবক অসীম সরকার বলেন, ২০১৮ সালে মেয়েদের পড়াশোনার কথা ভেবেই এই স্কুল তৈরি হয়েছিল। এত বছর পরেও প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ না হওয়ায় ছাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত আরও ক্লাস ঘরের ব্যবস্থা করা উচিত। 
স্কুলের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন অধিকারী বলেন, এলাকার বহু ছাত্রী এই স্কুলের উপর নির্ভরশীল। আরও অন্তত দু’টি ঘর প্রয়োজন। পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিধায়ক, সাংসদ, জেলা শিক্ষা দপ্তর-সহ বিভিন্ন জায়গায় আবেদন জানানো হয়েছে। করিমপুর নতুন চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সোমদেব মজুমদার বলেন, ওই স্কুলে অন্তত দু’টি ঘরের প্রয়োজন। বিষয়টি প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তরকে জানানো হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষক সমস্যা কিছুটা মিটলেও শ্রেণিকক্ষের অভাবে পঠনপাঠনের পরিবেশ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। দ্রুত আরও ক্লাস রুম তৈরি করে সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ