Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শহিদ জয়কৃষ্ণ পন্ডার মূর্তির নীচেই উদযাপিত হল কার্গিল বিজয় দিবস

পুজোর ছুটিতে বাড়িতে আসার কথা ছিল। কিন্তু এবছর তিনি বাড়িতে আসতে পারবেন না। হঠাৎই যুদ্ধ লেগে গিয়েছে।

শহিদ জয়কৃষ্ণ পন্ডার মূর্তির নীচেই উদযাপিত হল কার্গিল বিজয় দিবস
  • ২৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: পুজোর ছুটিতে বাড়িতে আসার কথা ছিল। কিন্তু এবছর তিনি বাড়িতে আসতে পারবেন না। হঠাৎই যুদ্ধ লেগে গিয়েছে। কার্গিলের ক্যাম্পে বসে সেই কথা জানানোর জন্য বাড়িতে চিঠি লিখছিলেন কাকদ্বীপের ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা ভারতীয় সেনা জয়কৃষ্ণ পন্ডা। কিন্তু সেদিন চিঠি লেখা সম্পূর্ণ হয়নি তাঁর। তার আগেই পাক বাহিনী অতর্কিতে হামলা চালায় ওই ক্যাম্পে। প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন ভারতীয় বীর সৈনিক। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সেদিন শত্রুপক্ষের বুলেটে ঝাঁঝরা হয়েছিলেন কাকদ্বীপের তরুণ বীর সৈনিক জয়কৃষ্ণ পন্ডা। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় ২৫ বছর। আজও তাঁর লেখা সেই অসমাপ্ত চিঠিকে সম্বল করে বেঁচে রয়েছে পন্ডা পরিবার। ২৬ জুলাই অর্থাৎ কার্গিল বিজয় দিবস এলেই ফাইল থেকে ভাইয়ের লেখা সেই অসমাপ্ত চিঠিটি বের করেন দাদা রাজকৃষ্ণ পন্ডা।

Advertisement

জানা গিয়েছে, সেই সময় শহিদ সৈনিকের বাড়ির ঠিকানা ছিল বামুনের মোড় স্টপেজে। এখন সেই জায়গার নামকরণ করা হয়েছে জয়কৃষ্ণ মোড়। পিচ রাস্তার পাশেই বসানো হয়েছে তাঁর পূর্ণাঙ্গ মূর্তি। ২৬ জুলাই সেখানে গ্রামবাসী ও প্রাক্তন সেনাকর্মীরা তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীর পাশাপাশি কার্গিল বিজয় দিবস উদযাপন করেন। শনিবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এই দিনটি উদযাপন করা হয়। প্রাক্তন সেনাকর্মী বিশ্বজিৎ পাত্র বলেন, ‘বীর সৈনিকের জীবন ব্যর্থ হয়নি। তিনি দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এক্স সার্ভিসম্যান কো-অর্ডিনেশন কমিটির উদ্যোগে ও গঙ্গাধরপুর শহিদ জয়কৃষ্ণ পন্ডা স্মৃতি রক্ষা কমিটির সহযোগিতায় এদিন স্মৃতিচারণার মধ্যে দিয়ে কার্গিল বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়।’
বীর শহিদের দাদা রাজকৃষ্ণ পন্ডা বলেন, ‘অতীতের সেই স্মৃতি আজও অমলিন। প্রতি বছর এই দিনে ভাইয়ের স্মৃতিচারণা করে পরিবারের সবাই। গ্রামবাসীরাও তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে এগিয়ে আসেন।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ