নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ফোনে বিনিয়োগ করে মোটা রোজগারের লোভ দেখিয়েছিল প্রতারকরা। সেই লোভ সামলাতে পারেননি কাঁথির ৭নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রত্নদীপ মান্না। ২০২০সাল থেকে ধাপে ধাপে মোট ১৩টি সংস্থায় ৭৬লক্ষ ৮২হাজার টাকা জমা করেন। তারপর ১৩লক্ষ ৬৬হাজার টাকা কোনোরকমে উদ্ধার করতে পারলেও ৬৩লক্ষ ১৫হাজার টাকা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। রত্নদীপবাবু কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক এবং বলাগেড়িয়া সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। ৪মে পালাবদলের পর ইস্তফা দিয়েছেন। এছাড়া তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। প্রাক্তন মন্ত্রী অখিল গিরির ঘনিষ্ঠ রত্নদীপ মান্না বুধবার রাতে তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায় ৬৩লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন। থানায় বসে ওই নেতার স্বীকারোক্তি, ‘লোভে পাপ-পাপে মৃত্যু। আমার সেই অবস্থাই হয়েছে।’ ২০১৯সালে নিজের মোবাইলে একটি ফোন পান কাঁথির ওই তৃণমূল নেতা। ধর্মতলায় অবস্থিত একটি সংস্থায় টাকা রাখলে মোটা রিটার্নের টোপ দেওয়া হয়। রত্নদীপবাবু অনলাইনে সেই অফিস যাচাই করেন। ঠিকানা খুঁজে কলকাতায় হাজির হন। সবকিছু দেখে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয়। তারপর ওই সংস্থার এবং তার অধীনে আরও একাধিক প্রতিষ্ঠানে ২০২০সাল থেকে দফায় দফায় টাকা দিতে শুরু করেন। অনলাইনে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা দিয়েছেন। ২০২২সাল পর্যন্ত মোট ৭৬লক্ষ ৮২হাজার টাকা দিয়ে ফেলেন। রত্নদীপবাবু বিভিন্ন জায়গা থেকে ধারদেনা করে এবং নিজের সঞ্চিত অর্থ ওইসব অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন।



