Bartaman Logo
৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিনিয়োগের লোভনীয় অফার, ৬৩ লক্ষ খোয়ালেন কাঁথির তৃণমূল নেতা

ফোনে বিনিয়োগ করে মোটা রোজগারের লোভ দেখিয়েছিল প্রতারকরা। সেই লোভ সামলাতে পারেননি কাঁথির ৭নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রত্নদীপ মান্না।

বিনিয়োগের লোভনীয় অফার, ৬৩ লক্ষ খোয়ালেন কাঁথির তৃণমূল নেতা
  • ৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ফোনে বিনিয়োগ করে মোটা রোজগারের লোভ দেখিয়েছিল প্রতারকরা। সেই লোভ সামলাতে পারেননি কাঁথির ৭নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রত্নদীপ মান্না। ২০২০সাল থেকে ধাপে ধাপে মোট ১৩টি সংস্থায় ৭৬লক্ষ ৮২হাজার টাকা জমা করেন। তারপর ১৩লক্ষ ৬৬হাজার টাকা কোনোরকমে উদ্ধার করতে পারলেও ৬৩লক্ষ ১৫হাজার টাকা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। রত্নদীপবাবু কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক এবং বলাগেড়িয়া সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। ৪মে পালাবদলের পর ইস্তফা দিয়েছেন। এছাড়া তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। প্রাক্তন মন্ত্রী অখিল গিরির ঘনিষ্ঠ রত্নদীপ মান্না বুধবার রাতে তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায় ৬৩লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন। থানায় বসে ওই নেতার স্বীকারোক্তি, ‘লোভে পাপ-পাপে মৃত্যু। আমার সেই অবস্থাই হয়েছে।’ ২০১৯সালে নিজের মোবাইলে একটি ফোন পান কাঁথির ওই তৃণমূল নেতা। ধর্মতলায় অবস্থিত একটি সংস্থায় টাকা রাখলে মোটা রিটার্নের টোপ দেওয়া হয়। রত্নদীপবাবু অনলাইনে সেই অফিস যাচাই করেন। ঠিকানা খুঁজে কলকাতায় হাজির হন। সবকিছু দেখে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয়। তারপর ওই সংস্থার এবং তার অধীনে আরও একাধিক প্রতিষ্ঠানে ২০২০সাল থেকে দফায় দফায় টাকা দিতে শুরু করেন। অনলাইনে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা দিয়েছেন। ২০২২সাল পর্যন্ত মোট ৭৬লক্ষ ৮২হাজার টাকা দিয়ে ফেলেন। রত্নদীপবাবু বিভিন্ন জায়গা থেকে ধারদেনা করে এবং নিজের সঞ্চিত অর্থ ওইসব অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন।

Advertisement

সেই টাকা ফেরত চাওয়ার সময়ই আসল রহস্য ধরা পড়ে। তিনি যাদের বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছিলেন তারা ধীরে ধীরে ফোন ধরা বন্ধ করে দেয়। মাঝে ১৩লক্ষ ৬৬হাজার ৩৫টাকা ফেরত পেলেও নিজের দেওয়া বাকি টাকা আর পাচ্ছেন না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর উলটোদিক থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে এবং সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে থানায় এফআইআর করার সিদ্ধান্ত নেন। দমদম এলাকার মোট আটজনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তমলুক সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।   
রত্নদীপবাবু বলেন, আমি এভাবে প্রতারণার শিকার হব ভাবতেও পারিনি। অনেকের কাছ থেকে ধারদেনা করে টাকা রেখেছিলাম। এছাড়া, স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে টাকা সংগ্রহ করেছি। পাওনাদারদের চাপ বাড়ছিল। ২০২৫সালে অক্টোবর মাসে চাকরি থেকে অবসর নিই। এককালীন ২৫লক্ষ টাকা পেয়েছিলাম। সেই টাকা পাওনাদারদের দিয়ে ঋণশোধ করি। এছাড়া, বাড়ি বন্ধক রেখে ২৪লক্ষ টাকা পেয়েছি। সেই টাকাও পাওনাদারদের দিয়েছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ