নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ইলেকট্রিক চুল্লিতে সংস্কারের কাজ চলায় বন্ধ হয়ে রয়েছে কামারহাটির আড়িয়াদহ শ্মশান। অনেকেই তা জানেন না। ফলে মৃতদেহ শ্মশানে এনেও ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে বহু পরিবার। শহরবাসীর অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ছাড়া অন্য কোনও মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়নি। ফলে অনেক মানুষ তা জানতে পারেননি। পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, সমস্ত কাউন্সিলার বিষয়টি জানেন। পুরসভার বাইরে থেকে আসা মানুষ হয়তো না জানতেও পারেন, তবে শহরবাসী বিষয়টি জানেন।
কামারহাটি পুরসভা এলাকায় গঙ্গা লাগোয়া দু’টি শ্মশান রয়েছে। তারমধ্যে আড়িয়াদহ শিবতলা শ্মশান ঘাটে ইলেকট্রিক চুল্লিতে মৃতদেহ দাহ করা হয়। পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পিটুরি ঘাটে শ্মশান থাকলেও সেখানে শুধু কাঠ দিয়ে দাহ করা হয়। তাই সেখানে সেই অর্থে ভিড় হয় না। শিবতলা শ্মশান ঘাটের গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে আধুনিকীকরণে দফায় দফায় কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে ১৭ লক্ষ টাকা ও ২০১৭ সালে প্রায় ৫২ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছিল। এরপর ইলেকট্রিক চুল্লি সারাইয়ের জন্য প্রায় প্রতি বছর শ্মশান বন্ধ রাখা হয়। অথচ, এই শ্মশানে কাঠে দাহ করার ব্যবস্থাও রয়েছে। যখন ইলেকট্রিক চুল্লি বন্ধ থাকে তখন কাঠে দাহ করার ব্যবস্থা চালু রাখা হয়নি। শ্মশানে কামারহাটির পাশাপাশি উত্তর দমদম ও নিউ বারাকপুর পুরসভার বাসিন্দারাও মৃতদেহ নিয়ে আসেন।
এদিন শ্মশানে গায়ে পুরসভার নোটিস দেখা গিয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বৈদ্যুতিক চুল্লি বন্ধ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্মশান কর্মী বলেন, ‘গত ১০ দিন ধরে শ্মশান বন্ধ রয়েছে। এখন সংস্কারের কাজ চলছে। কবে খুলবে আমরা বলতে পারব না। তবে মাঝেমধ্যে মৃতদেহ এসে ফিরে যাচ্ছে।’ যদিও পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল অরিন্দম ভৌমিক বলেন, শ্মশান ১২ তারিখ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ। ইলেকট্রিক চুল্লি সংস্কারের কাজ চলছে। ১২ তারিখের আগে থেকে শ্মশান বন্ধ থাকার কথা ঠিক নয়।