Bartaman Logo
১ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

আঙুল ও হাত জুড়ে কামাল করছে হ্যান্ড সার্জারি

আচমকাই পাশের বাড়ি থেকে আর্ত চিৎকার! ছুটে গেলেন আশপাশের বাড়িরস প্রতিবেশীরা। গিয়ে দেখা গেল রক্তারক্তি কাণ্ড। বঁটিতে সবজি কাটার সময় বাদ চলে গিয়েছে ডান হাতের বুড়ো আঙুল। রক্তে ভেসে গিয়েছে রান্নাঘর।

আঙুল ও হাত জুড়ে কামাল করছে হ্যান্ড সার্জারি
  • ১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ছিন্ন আঙুল সময়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে নিখুঁত জুড়ে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এমনকি হাতও! সম্ভব হচ্ছে কীভাবে? পরামর্শে বেলভিউ ক্লিনিকের বিশিষ্ট প্লাস্টিক অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জন ডাঃ রাজন ট্যান্ডন। 

Advertisement

আচমকাই পাশের বাড়ি থেকে আর্ত চিৎকার! ছুটে গেলেন আশপাশের বাড়িরস প্রতিবেশীরা। গিয়ে দেখা গেল রক্তারক্তি কাণ্ড। বঁটিতে সবজি কাটার সময় বাদ চলে গিয়েছে ডান হাতের বুড়ো আঙুল। রক্তে ভেসে গিয়েছে রান্নাঘর। দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছেন বাড়ির লোক। কী করবেন অনেকেই বুঝে উঠতেই পারছেন না। চিকিৎসককে ফোন করবেন নাকি হাসপাতালে যাবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েছেন বাড়ির লোক। কাটা আঙুলটি নিয়েই বা কী করা যায়? কীভাবে সেটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাবেন, তাও যে জানা নেই তাঁদের। কারণ এই বিষয়ে তেমন জ্ঞান অধিকাংশ মানুষেরই নেই। তাহলে কি আঙুল জোড়া লাগানো যাবে না? সারাটা জীবন কি এরকম থাকতে হবে? এমন মারাত্মক ঘটনা-দুর্ঘটনা ঘটলে এমন অসংখ্য প্রশ্ন মাথায় আসে। তাহলে সমাধান কী? দেখা যাক—
কখন করা হয়—
 হ্যান্ড সার্জারি মূলত কনুইয়ের পাশ থেকে হাতের আঙুল পর্যন্ত করা হয়। এর মধ্যে ট্রমাটিক সার্জারি রয়েছে, যেটি মূলত দুর্ঘটনায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বাদ যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
 অনেকের জন্মগতভাবে আঙুল জোড়া থাকে। সেটিকে আলাদা করার জন্যও সার্জারি করা হয়। 
 অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তির অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও সার্জারি করা হয়। 
 মনে রাখবেন, সাধারণত ছোটো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যেমন হাত-পায়ের আঙুল যদি কেটে যায়, তাহলে তা ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফের প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। কিছু ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেও তা করা সম্ভব। কিন্তু সেই ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। 
কীভাবে সংরক্ষণ করবেন কাটা অঙ্গ
১. কাটা অঙ্গটিকে পরিষ্কার জলে বা স্যালাইনে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। 
২. তারপর সেটিকে শুকনো অবস্থায় প্লাস্টিকের পাত্রে রাখতে হবে। 
৩. এরপর একটি বড়ো পাত্রে বরফ নিতে হবে। সেটির মধ্যে মুখবন্ধ অবস্থায় এই ছোটোপাত্রটিকে রাখতে হবে। 
৪. মনে রাখতে হবে কাটা অঙ্গটি ঠান্ডা অবস্থার মধ্যে থাকলেও কোনোভাবেই যেন ভিজে না যায়।

৫. এরপর যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ কোনো হাসপাতালে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ব্যক্তি এবং ওই কাটা অঙ্গটিকে নিয়ে যেতে হবে। 
৬. তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে জখম ব্যক্তিকে ব্যথার ওষুধ এবং স্যালাইন দিলে ভালো হয়। তাতে শরীরের জলাভাব কাটবে। 
৭. পাশাপাশি কাটা জায়গাটিতে প্রেশার ড্রেসিং করে দিতে হবে। ফলে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যাবে। 
৮. তবে সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষেত্রেই এই এক নিয়ম প্রযোজ্য নয়। বরং উলটোটাই। আঙুল ছোটো বলে সেটির ক্ষেত্রে সময় কিছুটা বেশি নেওয়া যেতে পারে। 
৯. অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যদি বড়ো হয়, যেমন হাত বা পা, সেক্ষেত্রে এই সময় আরও কম পাবেন আহতরা। কারণ বড়ো অঙ্গে টিস্যুর পরিমাণ বেশি, সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রেও কিছুটা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তাই এই ক্ষেত্রে ৪-৬ ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছতেই হবে হাসপাতালে। কারণ যথাযথ রক্ত সরবরাহ না হলে মাসল বা টিস্যু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তবে ছোটো-বড়ো অঙ্গ দুই ক্ষেত্রেই রোগীকে স্যালাইন, ড্রেসিং এবং ব্যথার ওষুধ দিতেই হবে। 
সবসময় জোড়া লাগবেই?  
সব ক্ষেত্রেই কি ছিন্ন আঙুল বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জোড়া লাগবে? উত্তর হল, ১০০ শতাংশ গ্যারান্টি দেওয়া অসম্ভব। তবে আপ্রাণ চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু মেশিনে কাজ করার সময় আঙুল যদি পিষে যায়, হাড় গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায়, ছিন্ন অঙ্গ জোড়া লাগানো সমস্যার। অনেকক্ষেত্রে পায়ের আঙুলের সাহায্যে জোড়া লাগানোর বা তৈরির চেষ্টা করা হয়। ক্যানসার আক্রান্ত বা অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তির অঙ্গ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন পড়লে শরীরের অন্য স্থান থেকে টিস্যু, ত্বক সংগ্রহ করে প্রতিস্থাপন সম্ভব। দুর্ঘটনায় রোগী গুরুতরভাবে আহত হলে, মাথা বা অন্যত্র গুরুতর চোট লাগলে তাঁকে আগে বাঁচানোর প্রচেষ্টায় মন দিতে হয়। ততক্ষণে কাটা অঙ্গ হাসপাতালের ঠান্ডা কোনো জায়গায় বা ফ্রিজে রাখা থাকে। রোগী কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর অঙ্গ প্রতিস্থাপন শুরু হয়।

লিখেছেন শৌণক সুর

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ