সংবাদদাতা, কল্যাণী: গত কয়েক বছর ধরে কল্যাণীতে লাফিয়ে বাড়ছে ঠাকুর দেখার ভিড়। কলকাতার নামকরা পুজোগুলিতে যেরকম ভিড় হয় সে সংখ্যক লোক সমাগমকে টক্কর দিচ্ছে কল্যাণী শহরের পুজোগুলি। এখানেও মহালয়া থেকে পুজো দেখা শুরু হয়ে যায়। পুজোর সময় প্রতিদিনই লক্ষ লক্ষ মানুষ পা রাখেন এই ছোট শহরে। এই বছরও ছবিটা একইরকম থাকবে বলে মনে করছে পুজো উদ্যোক্তারা।
কল্যাণীতে তিনটি বিগ বাজেটের পুজো হয়। সেখানেই মূলত ভিড় জমায় মানুষ। এছাড়াও মাঝারি বাজেটের পুজো আছে আরও কয়েকটি। সবগুলিতে উদ্বোধনের পর থেকেই ভিড়। পুজো দেখতে রাস্তায় জনস্রোত। শহরের ‘এ’ থেকে ‘বি’ ব্লক যাওয়ার দেড় কিলোমিটার রাস্তা পার হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এবছর ভিড় সামাল দিতে আগেভাগেই তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ। পুজো উদ্যোক্তারাও একাধিক পরিকল্পনা করেছে। বড় পুজোগুলিতে কোন রাস্তা দিয়ে দর্শক ঢুকবে, কোন রাস্তা দিয়ে বেরবে ইত্যাদি জরুরি বিষয়গুলি নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। গাড়ি কোন রাস্তা দিয়ে যাবে তা নিয়ে পরিকল্পনা করে ব্যারিকেড দেওয়ার কাজ শুরু করতে চলেছেন পুজো উদ্যোক্তারা। পুলিশের পক্ষ থেকেও মণ্ডপগুলিতে হচ্ছে স্পট ভিজিট। ঢোকা-বেরনোর রাস্তা দেখা, বাঁশের ব্যারিকেড কতটা শক্তপোক্ত তা দেখছেন পুলিশ আধিকারিকরা। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক এবং সিসি ক্যামেরা বসানোর কথাও বলছে প্রশাসন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনটি বড় পুজো ১০ বার পরিদর্শন করা হয়েছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছে, দর্শকদের নিরাপত্তার বিষয়ে জোর দিতে নেওয়া হচ্ছে প্রস্তুতি।
কল্যাণীতে লুমিনাস ক্লাব, এ-৯ স্কোয়ার পার্ক ও রথতলা সর্বজনীন বড় আকারের পুজো। এখানে পুজোর সময় মেলাও বসে। এ-৯ এ বছর পুজো অপেক্ষাকৃত ছোট আকারে করছে বলে জানিয়েছে উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে ব্যবসাদারদের বক্তব্য, পুজোর সময় বহু মানুষ কল্যাণীতে আসেন বলে ব্যবসা ভালো হয়। কল্যাণীর মূল স্টেশন সংলগ্ন একটি খাবারের দোকান জানিয়েছে, পুজোর দিন প্রায় ১০ লক্ষ টাকার বিরিয়ানি বিক্রি হয়েছে। এ বছরও ভালো ব্যবসা হবে বলে আশা করছে তারা।