Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কল্যাণী: ৩ বিধানসভায় বাদ ৯০ হাজার ভোটার, বিজেপির উপর প্রবল ক্ষুব্ধ ‘ডিলিট’ মতুয়ারা

কল্যাণী মহকুমার তিনটি বিধানসভা এলাকায় এসআইআর পরবর্তী ভোটার তালিকা নিয়ে তুমুল চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মোট তিন দফার সংশোধন মিলিয়ে চাকদহ, কল্যাণী ও হরিণঘাটা বিধানসভা এলাকায় ৯০ হাজারের বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

কল্যাণী: ৩ বিধানসভায় বাদ ৯০ হাজার ভোটার, বিজেপির উপর প্রবল ক্ষুব্ধ ‘ডিলিট’ মতুয়ারা
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কল্যাণী: কল্যাণী মহকুমার তিনটি বিধানসভা এলাকায় এসআইআর পরবর্তী ভোটার তালিকা নিয়ে তুমুল চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মোট তিন দফার সংশোধন মিলিয়ে চাকদহ, কল্যাণী ও হরিণঘাটা বিধানসভা এলাকায় ৯০ হাজারের বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই ভোটারদের একটা বড়ো অংশ মতুয়া ও নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ভুক্ত। আগে একাধিকবার ভোট দেওয়ার পর, কারও কারও ক্ষেত্রে ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে ‘ম্যাপিং’ হয়ে যাওয়ার পরও নাম ‘ডিলিটেড’ হওয়ায় প্রবল ক্ষুব্ধ মতুয়ারা। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তার জন্য বহু প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। যদিও বিজেপির দাবি, কমিশনের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। মৃত, স্থানান্তরিত এবং অযোগ্য ভোটারদের নামই কেবল বাদ দেওয়া হয়েছে তালিকা থেকে। তবে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা সিএএ-তে নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

Advertisement

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাকদহ বিধানসভা এলাকায় প্রথম পর্যায়ে ১৩,২১৬ জন, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫,৮৬৪ জন এবং তৃতীয় তথা চূড়ান্ত পর্যায়ে ১০,৭৫১ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কল্যাণী বিধানসভা এলাকায় প্রথম পর্যায়ে ১৭ হাজার ৮৭২, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৯,০৬৪ এবং তৃতীয় পর্যায়ে ৯,৩৩৪ জনের নাম বাদ গিয়েছে। হরিণঘাটা বিধানসভায় প্রথম পর্যায়ে ১০৮২৪, দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৫৩৯ এবং তৃতীয় পর্যায়ে ১১,৬৮৯ জনের নাম বাদ গিয়েছে। সব মিলিয়ে চাকদহতে ২৯ হাজার ৮৩১, কল্যাণীতে ৩৬ হাজার ২৭০ এবং হরিণঘাটায় ২৪ হাজার ৫২ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে কাটা গিয়েছে। গোটা কল্যাণী মহাকুমায় মোট সংখ্যা ৯০ হাজার ১৫৩। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম কাটা যাওয়ার প্রভাব এবারের ভোটে নিশ্চিতভাবে পড়বে বলে মনে করছে রাজনৈতিক দলগুলি।
এ বিষয়ে তৃণমূলের রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের পরিবার বিজেপির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিশোধ নেবে। কারণ, এটা জলের মতো স্বচ্ছ হয়ে গিয়েছে যে বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসতে চাইছে।’ বিজেপির বনগাঁ সংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি সব্যসাচী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের বেশিরভাগ মৃত ও স্থানান্তরিত। এই এলাকায় হিন্দু ভোটার বেশি বাদ গিয়েছে। তাঁদের জন্য রক্ষাকবচ রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আমরা আগেই বলেছিলাম সিএএতে আবেদন করতে। কিন্তু তৃণমূল মানুষকে ভুল বুঝিয়ে এতদিন আটকে রেখেছে। তৃণমূলের ফাঁদে পড়েই যে তাঁদের নাম কাটা গিয়েছে, সেটা মানুষ বুঝতে পেরেছে। মানুষ তাই পুনরায় এই তিন বিধানসভায় বিজেপিকে জয়ী করবে।’
নেতারা তাঁদের রাজনৈতিক লাভক্ষতির হিসাব কষছেন। আর নাম বাদ যাওয়া মতুয়া সহ সাধারণ মানুষ পড়েছেন অসহায় অবস্থার মধ্যে। যত দিন যাচ্ছে, কমিশনের কাজকর্মে ক্ষোভ বাড়ছে মতুয়াদের। অনেকের আশঙ্কা, হয়তো ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারবেন, তাঁর নামটাই নেই তালিকায়! প্রশাসনের তরফে অবশ্য সবাইকে আগাম ভোটার তালিকা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানে ভোটের আগে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে কল্যাণী মহকুমা।

সম্পর্কিত সংবাদ