Bartaman Logo
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভিনরাজ্যে পাড়ি কালনার পুরোহিত, ঢাকিদের

রোদ বৃষ্টির খেলায় আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা পেঁজা তুলোর মেঘের আনাগোনা বলে দিচ্ছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো আসন্ন।

ভিনরাজ্যে পাড়ি কালনার পুরোহিত, ঢাকিদের
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কালনা: রোদ বৃষ্টির খেলায় আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা পেঁজা তুলোর মেঘের আনাগোনা বলে দিচ্ছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো আসন্ন। পুজোয় নানা আড়ম্বরের সঙ্গে ঢাকের ঢ্যাং কুরকুর থাকবে না, তা কি হয়। বিগত বছরের মতো এবারও কালনার ঢাকিরা দুর্গাপুজোর ঢাক বাজাতে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। এবার কালনা শহর ও শহরতলির ২৩ জন ঢাকি ঢাক বাজাতে পাড়ি দিচ্ছেন মহারাষ্ট্রের মুম্বই, পুনে সহ চেন্নাই, রাজস্থান রাজ্যে। ইতিমধ্যে প্রত্যেকের ট্রেনের রিজার্ভেশন টিকিট হয়ে গিয়েছে। মহরা চলছে পুরোদমে। পুজোর দু’দিন আগে তাঁরা পৌছে যাবেন যাঁর যাঁর গন্তব্যস্থলে। শুধু ঢাকি নয় কালনা থেকে পুজোয় পৌরহিত্য করতে কয়েকজন পুরোহিত পাড়ি দিচ্ছেন ভিনরাজ্যে।

Advertisement

কালনার ঢাকিদের কদর ভিনরাজ্যে বেশ ভালো। বিগত তিন দশকের বেশী সময় ধরে কালনার ঢাকিরা সুনামের সঙ্গে ভিনরাজ্যে ঢাক বাজিয়ে আসছেন। দিনকে দিন সংখ্যাটা বারছে। পুজোর মাস দুয়েক আগে থেকে ভিনরা঩জ্যের পুজো কমিটির তরফ থেকে কালনার ঢাকিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। চলে দর কষাকষি। পছন্দ সই বায়না পেলে উভয়ের সম্মতিতে চলে আসে বায়নার অগ্রীম টাকা।
কালনা বারুইপাড়ার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ দাস এবার ২৩জন ঢাকির দল নিয়ে দুর্গা পুজোয় ঢাক বাজাতে পাড়ি দিচ্ছেন মুম্বাই ও পুনে। মহারাষ্ট্রে পৌছে আলাদা আলাদা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে পৌছে যাবেন কান্দিবালি, বান্দ্রা সহ বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে। শুধু ঢাক নয়, ঢাকের সঙ্গে থাকছে ঢোল ও কাশি। কালনা বারুইপাড়া, দাসপাড়া, মধুবন সহ মন্তেশ্বরের কয়েকজন ঢাকি রয়েছেন। নিজের রাজ্য ছেড়ে কেন ভিনরাজ্যে যাওয়া? এই বিষয়ে ঢাকিদের বক্তব্য, এলাকায় ঢাক বাজিয়ে যা রোজগার হয় ভিনরাজ্যে পরিশ্রম বেশী হলেও রোজগার রাজ্যের তুলনায় তিন গুন। এলাকায় বাজালে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা হয়। ভিনরাজ্যে গেলে ১৮-২০ হাজার টাকা রোজগার হয় বলে ঢাকিদের দাবি। আসা যাওয়ার খরচ বহন করে পুজো কমিটি। ভিনরাজ্যে অনেক গুনিজনদের সামনে ঢাক বাজাতে হয়। ঢাকের তাল ঠিক না হলে পরের বছর বায়না আসেনা। তাই সুনাম বজায় রাখতে বাজনার তালিমের জন্য পালা করে চলছে মহরা।
ঢাকি প্রসেনজিৎ দাস বলেন, এলাকায় ঢাক বাজিয়ে বড়জোর ৫-৬ হাজার টাকা রোজগার হয়। সেখানে ভিনরাজ্যে গেলে রোজগার হয় ১৮-২০ হাজার টাকা। এছাড়াও অতিরিক্ত বকশিস পাওয়া যায়।
কালনা অধিকারি পাড়ার বাসিন্দা পুরোহিত সুদীপ্ত পাণ্ডে ও লালবাগানপাড়ার বাসিন্দা পুরোহিত পীযুষ পাণ্ডে এবার দুর্গা পুজোয় পৌরহিত্য করতে পাড়ি দিচ্ছেন মুম্বাই। পুজো কমিটির সঙ্গে পাঁচ দিনে তাদের  চুক্তি ৬০ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে তাদের ট্রেনের রিজার্ভেশন হয়ে গেছে। 
সুদীপ্তবাবু বলেন, এলাকায় পুজো করলে বড়জোর ১০-১২ হাজার টাকা পাওয়া যায়। ভিনরাজ্য মুম্বাইতে এবার পুজোয় আমাদের দু’জনের চুক্তি ৬০ হাজার টাকা।     

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ