নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিট প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডে এবার পথে নামল কালীঘাট তৃণমূল। আর সেই কর্মসূচি ঘিরেই শনিবার দুপুরে উত্তেজনা ছড়াল সিআইটি রোডের পদ্মপুকুর মোড়ে। বেলা ২টোয় মিছিলের সময় দেওয়া থাকলেও তার আগে থেকেই কর্মী-সমর্থকরা ভিড় জমাচ্ছিলেন। ম্যাটাডরের উপর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, দোলা সেন, কুণাল ঘোষ, হুমায়ুন কবীর বক্তব্য রাখছিলেন। শুরু থেকেই পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয় তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট থেকে মিছিলের অনুমতি না মেলায় পুলিশ ম্যাটাডর সরাতে বলে। তখনই শুরু হয় বচসা। এক সময় বিক্ষোভস্থলে চলে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ ব্রায়েন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আটক করা হয় বিধায়ক কুণাল ঘোষ ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে।
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, প্রথমে মৌলালি পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি মিললেও পরে তা বাতিল করা হয়। মিছিল করতে চেয়ে তৃণমূল তখন হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। শুনানি না হওয়া পর্যন্ত নেতৃত্ব পদ্মপুকুরেই ছিল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের স্পেশাল বেঞ্চে মামলা উঠলে মিছিলের অনুমতি বাতিল করে দেওয়া হয়। এই খবর পদ্মপুকুরে আসতেই পুলিশ মাইকে ঘোষণা করতে থাকে, এখনই এলাকা খালি করে দিতে হবে। তা নিয়ে ফের এক দফা বচসা বাধে দু’পক্ষের মধ্যে। একটা সময় বিধায়ক কুণাল ঘোষ, তৃণমূল নেত্রী উপাসনা চৌধুরী ওই জায়গা থেকে চলেও যান। আচমকা তাঁরা ফিরেও আসেন। তখনই ঢোকেন মমতা ও ডেরেক। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। মমতা বলেন, ‘কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে বিজেপি সরকার। নিটের প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আমরা ছাত্রদের পাশে ছিলাম, থাকব। ধর্মেন্দ্র প্রধান বাধ্য হয়েছেন ইস্তফা দিতে। আমাদের প্রতিবাদকে ভয় পেয়ে আটকে দেওয়া হচ্ছে।’ তার আগেই কুণাল ঘোষ ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে প্রিজন ভ্যানে তুলে লালবাজারে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তখন আরও এক দফা উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা।
এই পরিস্থিতিতে উপাসনার স্কুটারে চেপে বাড়ির পথে রওনা হন মমতা। বাড়ি ফিরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে নিয়ে ফেসবুক লাইভ করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) সব পার্টিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আমাদের মধ্যরাতে বলছে অনুমতি হবে না। তৃণমূল কি অচ্ছুৎ নাকি? এভাবে তৃণমূলের কণ্ঠরোধ করা যায় না। সেখানে পুলিশের অত্যাচারের খবর শুনেই আমি ছুটে গেলাম। প্রতিটা ট্রাফিক সিগন্যাল লাল করে রেখেছিল। সেখানে গেলে পুলিশ আমাকে ঘিরে ধরে বর্বরোচিত আক্রমণ করেছে।’ প্রসঙ্গত, আগামী সোমবার দিল্লির যন্তরমন্তরে ‘ককরোচ’দের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল মমতার। কিন্তু এদিন ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর তাঁরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এই অবস্থায় মমতার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই দেখার।