ইস্যু যানজট, দমদম রোডের উপর থেকে সরানো হল কালীপুজোর নির্মীয়মাণ মণ্ডপ
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: দমদম রোডের উপর তৈরি হচ্ছিল খামখেয়ালি সংঘের কালীপুজোর মণ্ডপ। সেই মণ্ডপ সরিয়ে দিল পুলিশ। নতুন করে তাদের মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে ঘোষপাড়ার গলির মুখে। পুলিশ জানিয়েছে, রাস্তা আটকে পুজো হলে যানজট হয়। তাই এই সিদ্ধান্ত। তাহলে এই নিয়ম কেন মণ্ডপ তৈরির আগে কার্যকর করা হল না? দমদমজুড়ে এই প্রশ্নে শুরু হয়েছে জোর তরজা। ক্লাব সদস্যদের বক্তব্য, ৫৬ বছর ধরে যেখানে পুজো হচ্ছে, সেই মণ্ডপের কাজ বন্ধ করতে আচমকা পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কয়েকজন কর্মীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এসব না করে মণ্ডপ তৈরির আগে আমাদের জানানো হলে ভালো হত।  

Advertisement

দমদম স্টেশন থেকে নাগেরবাজারগামী  দমদম রোডের ডান ও বাম দিকের গলিতে পরপর কালীপুজো হয়। দমদম রোডের প্রায় অর্ধেক আটকে বহু বছর দু’টি কালীপুজো হতো। গত বছরই দাগা কলোনি লাগোয়া আমরা মিলেছি ক্লাবের কালীপুজো বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন স্থানীয় কাউন্সিলার দেবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে ফুচু জানিয়েছিলেন, রাস্তার উপর পুজো হলে যানজট হয়। তাই ওই পুজো পাশের পুজোর সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হলো। রাস্তায় পুজো হবে না। কিন্তু তার পাশে খামখেয়ালি সংঘের পুজো গতবারও রাজীব ভবন লাগোয়া রাস্তার উপর হয়েছিল। ৫৭ বছরে পা দেওয়া ওই পুজোর বিশাল থিমের মণ্ডপ এবারও সেখানেই তৈরির কাজ শুরু হয়। অর্ধেক মণ্ডপ নির্মাণ হয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে গত শনিবার আচমকাই পুলিশ জানায়, রাস্তায় পুজো করা যাবে না। মণ্ডপ তৈরির কয়েকজন কর্মীকে নাগেরবাজার থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ক্লাব কমিটি মণ্ডপ খুলে তা পাশের ঘোষপাড়া গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে ছোটো আকারে মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। ক্লাবের একাধিক সদস্য বলেন, গত ৫৬ বছর ধরে বাম ও তৃণমূল জমানায়  রাজীব ভবনের সামনে দমদম রোডে পুজো হচ্ছিল। যানজট এড়াতে ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবীরাও থাকত। এবার ধুমধাম করে খুঁটিপুজো করা হল। সাতদিন ধরে মণ্ডপ তৈরির কাজ চলছিল। পাশেই পুলিশ ফাঁড়ি। কেউ তখন না করেনি। ক্লাবের সভাপতি পিন্টু ঘোষ বলেন, ‘পুলিশ ও প্রশাসন যা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সেটাই মানব। আগে এই সিদ্ধান্ত জানতে পারলে মণ্ডপ  তৈরি, খোলা, ফের নতুন জায়গায় মণ্ডপ তৈরির মতো ঝক্কি পোহাতে হত না।’ দমদমের বিধায়ক অরিজিৎ বক্সি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা দীর্ঘ কয়েক দশকের সমস্যা। মানুষ তাঁদের অসুবিধার কথা জানিয়েছিল। গত বছর প্রশাসন পরিকল্পনা করলেও তা কার্যকর করতে পারেনি। এ বছর মূল সড়ক থেকে মণ্ডপ স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। মানুষের স্বার্থেই প্রশাসন কাজ করেছে।’