


স্বপন দাস, কাকদ্বীপ: স্কুলে আড়াই হাজার ছাত্র-ছাত্রী। শিক্ষক সংখ্যা মাত্র ২৪। ফলে ক্লাস নেওয়ার চাপ। পড়ুয়াদের দিকে ঠিকমতো নজর দেওয়া সম্ভব নয়। স্কুলের এই অবস্থা দেখে অবসরের পর ফিরলেন প্রাক্তন শিক্ষক। বিনা পারিশ্রমিকে ক্লাস নিতে আবেদন জানালেন।
কাকদ্বীপের বামানগরের বাসিন্দা তাপসকুমার পড়ুয়া। ৩০ এপ্রিল তিনি বামানগর সুবালা উচ্চবিদ্যালয় (উঃ মাঃ) থেকে অবসর নিয়েছেন। শ্রদ্ধেয় শিক্ষককে বিদায় সম্বর্ধনা দিয়েছিল সবাই। তারপর কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়ে স্কুলের কার্যকরী কমিটি। কারণ তাপসবাবু অবসর নেওয়ার পর শিক্ষক সংখ্যা কমে এসে দাঁড়ায় ২৪ জনে। ফলে আড়াই হাজার পড়ুয়া এবং দু’টি হোস্টেলের ৬০০ ছাত্র ও ৫০০ ছাত্রীর পড়াশোনা সমস্যায় পড়ে। কিভাবে স্কুল চলবে কিভাবেই বা চলবে হোস্টেল, তা নিয়ে কমিটি চিন্তায় পড়ে। তা জেনে অবসরের পরের দিনই ফিরে আসেন তাপসবাবু। বিনা পারিশ্রমিককে ক্লাস নেওয়ার আবেদন জমা দেন কর্তৃপক্ষকে। তা হাতে পেয়ে স্বস্তির শ্বাস ফেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ। দেরি না করে সেদিন থেকেই ক্লাস নেওয়ার অনুমতি দেয়। এখন আগের মতই স্কুলে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াচ্ছেন তাপসবাবু।
তিনি বলেন, ‘১৯৯৩ সালে স্কুলে যোগ দিয়েছিলাম। তখন থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ আমার কাছে আনন্দ নিকেতন হয়ে উঠেছিল। স্কুলের সব ছাত্র-ছাত্রী আমার স্নেহের। তাই ফিরে এসেছি। যতদিন কর্মক্ষম থাকব ততদিন স্কুলে আসব। ক্লাস নেব।’ সুবালা বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধানশিক্ষক তপনকুমার মণ্ডল বলেন, ‘তাপসবাবু নিজে থেকে ফিরে না এলে খুব সমস্যায় পড়তাম। উনি পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াতেন। সপ্তাহে ২৫টি করে ক্লাস নেন। আগের মত এখনও একইরকমভাবে পড়াচ্ছেন।’ - নিজস্ব চিত্র