Bartaman Logo
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুড়িয়েই খুন কাকদ্বীপের সিপিএম সমর্থক দম্পতিকে, কোর্টে চার্জশিট পেশ করে দাবি সিটের

কাকদ্বীপে সিপিএম কর্মী দেবপ্রসাদ দাস এবং তাঁর স্ত্রী ঊষারানি দাসকে নৃশংসভাবে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনায় চার্জশিট দিল স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিভ টিম বা ‘সিট’।

পুড়িয়েই খুন কাকদ্বীপের সিপিএম সমর্থক দম্পতিকে, কোর্টে চার্জশিট পেশ করে দাবি সিটের
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাকদ্বীপে সিপিএম কর্মী দেবপ্রসাদ দাস এবং তাঁর স্ত্রী ঊষারানি দাসকে নৃশংসভাবে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনায় চার্জশিট দিল স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিভ টিম বা ‘সিট’। রাজ্য পুলিশের আইজি (আইবি) মুরলীধর শর্মার নেতৃত্বে ১১ সদস্যের ‘সিট’ বুধবার কাকদ্বীপ  এসিজেএম আদালতে চার্জশিট পেশ করে।

Advertisement

কাকদ্বীপ আদালত সূত্রে খবর, ধৃত ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে সিট। যার মধ্যে রয়েছে ওই পঞ্চায়েত ভোটে জয়ী তৃণমূল প্রার্থী অমিত মণ্ডল। খুনের ‘মোটিভ’ বা উদ্দেশ্য নিয়ে বলতে গিয়ে ‘সিট’ চার্জশিটে জানিয়েছে, অতীতে বুধাখালিতে কখনও তৃণমূল জেতেনি। তাই ওই এলাকায় রাজনৈতিক জমি শক্ত করতেই এই খুন। পাশাপাশি কেরোসিন তেল ঢেলে জ্যান্ত অবস্থায় পুড়িয়ে মারা হয়েছে এই দম্পতিকে। কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তাঁদের ট্র্যাকিয়াতে কার্বন সুট মিলেছে। স্বাভাবিকভাবে তদন্ত শেষে শর্ট সার্কিটের তথ্য নাকচ করেছে সিট। কারণ ফরেনসিক রিপোর্টে কেরোসিন তেল থাকার বিষয়টি রয়েছে।
উল্লেখ্য ২০১৮ পঞ্চায়েত ভোটের আগের রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বুধাখালি গ্রামে বাড়িতেই নৃশংসভাবে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল এই  দম্পতিকে। তাঁদের ছেলে দীপঙ্কর দাসের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে তৎকালীন কাকদ্বীপ থানা বিদ্যুৎ হালদার সহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তদন্ত শেষে ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছিল পুলিশ। ধৃতদের সিংহভাগই সিপিএম কর্মী-সমর্থক। পুলিশের ভূমিকায় অখুশি দীপঙ্কর দাস এরপর কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এরপর হাইকোর্ট আইপিএস অফিসার মুরলীধর শর্মার নেতৃত্বে ‘সিট’ গঠন করে এই রহস্যময় খুনের কিনারা করতে নির্দেশ দেয়। ২০২৫ সালে রাজ্য পুলিশের আইজি মুরলীধর শর্মার নেতৃত্বে তদন্তে নামেন ‘সিট’। খুনের ৭ বছর পর তদন্তে নেমে সিটের গোয়েন্দারা লক্ষ্য করেন, সময়ের সঙ্গে এই রহস্যময় খুনের বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ হারিয়ে গিয়েছে। বাধ্য হয়ে সিটকে প্রথাগত ভাবনার বাইরে গিয়ে ‘লিন ভয়েস অ্যানালিসিস’, পলিগ্রাফ টেস্ট, ‘গেট প্যাটার্ন’, ‘বিহেভিয়াল অ্যানলিসিস’ এর মতো পদ্ধতিকে কাজে লাগাতে হয়েছে। ততদিনে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হয়েছে। সিট কেন কাউকে গ্রেপ্তার করছে না এই অভিযোগ নিয়ে ২৩ জুন সিপিএম নেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে নিহত দম্পতির ছেলে দীপঙ্কর দাস নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন। এরপর ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার নির্দেশে রাতারাতি ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলার এসপি বিশ্বচাঁদ ঠাকুরের নির্দেশে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে কাকদ্বীপ থানা।  তারপর একাধিক রিপোর্ট হাতে আসার আগে তড়িঘড়ি চার্জশিট পেশ করতে হয়েছে সিটকে। ফলে এই মামলার ভবিষ্যত নিয়ে সংশয় রয়ে গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ