Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভাঙা হবে কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন, টালিগঞ্জ পর্যন্ত সব প্ল্যাটফর্মের পিলার নিয়েই শঙ্কা

সংস্কার বা মেরামতিতে মিটবে না সমস্যা। এখন আর অন্য কোনও উপায় নেই। তাই পুরোপুরি ভেঙে ফেলতে হবে কবি সুভাষ (নিউ গড়িয়া) মেট্রো স্টেশন।

ভাঙা হবে কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন, টালিগঞ্জ পর্যন্ত সব প্ল্যাটফর্মের পিলার নিয়েই শঙ্কা
  • ৩১ জুলাই, ২০২৫ ১০:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সংস্কার বা মেরামতিতে মিটবে না সমস্যা। এখন আর অন্য কোনও উপায় নেই। তাই পুরোপুরি ভেঙে ফেলতে হবে কবি সুভাষ (নিউ গড়িয়া) মেট্রো স্টেশন। দেশের প্রথম মেট্রো রুটের দক্ষিণ অংশের প্রান্তিক স্টেশন এটি। নির্মাণকাজে বড়সড় গাফিলতি থেকে যাওয়ার কারণেই  সাজানো-গোছানো মেট্রো স্টেশনের এই পরিণতি এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা! নতুন করে তৈরি হবে স্টেশনটি। শহরের ব্যস্ততম মেট্রো রুটের লক্ষ লক্ষ যাত্রী স্বভাবতই চরম সমস্যায় পড়বেন। শিয়ালদহ সাউথ সেকশনের ট্রেন যাত্রীদের একটা বড় অংশ নিউ গড়িয়ায় নেমে কবি সুভাষ থেকে মেট্রো ধরে কর্মস্থলে বা অন্যান্য কাজে যায়। যতদিন নতুন স্টেশন তৈরি না হচ্ছে, ততদিন শহিদ ক্ষুদিরাম (ব্রিজি) প্রান্তিক মেট্রো স্টেশন হিসেবে কাজ করবে। তবে তার জন্য শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনের পরিকাঠামো বদল প্রয়োজন। কারণ, টালিগঞ্জের পর একমাত্র কবি সুভাষ স্টেশনেই মেট্রো রেক আপ কিংবা ডাউনের জন্য অভিমুখ বদল করতে পারে। এখন শহিদ ক্ষুদিরামেও সেই পরিকাঠামো ও প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। ট্র্যাকের যে অংশের মাধ্যমে রেকগুলি লাইন বদল করে, সেই পয়েন্ট তৈরি করতে হবে এখানে। বসাতে হবে পৃথক সিগন্যালও। তাছাড়া, এই পরিবর্তিত ব্যবস্থা চালু করতে সিআরএস (কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি) পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক।

Advertisement

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন খালি করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। মেট্রো রেলের তরফে স্টেশন ভাঙার জন্য টেন্ডার ডাকা হয়েছে। বুধবার কবি সুভাষ স্টেশন পরিদর্শনে যান মেট্রো রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্তারা। একাধিক পিলারে ফাটলের পাশাপাশি স্টেশনের আপ প্ল্যাটফর্মের মেঝেও ভেঙে গিয়েছে দেখে তাজ্জব হয়ে যান তাঁরা। মেট্রোর এক শীর্ষস্থানীয় ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ‘কবি সুভাষ স্টেশনটি যেখানে গড়ে তোলা হয়েছিল, সেখানে আগে ছিল বিরাট পুকুর। জলাভূমি বুজিয়ে ওই স্টেশন গড়ে তোলা হয়। পাইলিং ঠিক মতো করা হয়নি। ফলে দিনে দিনে নরম মাটি বসে গিয়ে গোটা একটা স্টেশন হেলে গিয়েছে।’ 
কবি সুভাষ থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোর লাইন গিয়েছে আদিগঙ্গার উপর দিয়ে। তাই আদিগঙ্গার উপর তৈরি প্রতিটি পিলারের স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কার যথেষ্ট কারণ আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ওই ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ‘কবি সুভাষ থেকে গীতাঞ্জলির মাঝে একাধিক পিলারে ফাটল ধরা পড়েছিল। ‘বর্তমান’ সংবাদপত্রে সেই খবর প্রকাশিত হয়। তখন এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সচেষ্ট হননি মেট্রো ভবনের শীর্ষ আমলারা। জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছিল। শুক্রবার শেষ মেট্রো চলে যাওয়ার পর থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত মেরামতির কাজ হতো। এখন সেই কাজও হচ্ছিল না। কবি সুভাষ স্টেশন ভাঙার সময় আশপাশের পিলারগুলির আরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সব কাজ শেষ করে ফের পরিষবা চালু করতে দেড় থেকে দু’বছর লেগে যাবে।’ -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ