Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কমেছে পাটের দর, বেড়েছে উৎপাদন খরচ, সংকট মেটাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান চাষিরা

তেহট্টের চাষিরা পাটের দর কমে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন। উৎপাদন খরচ বাড়ছে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন। বিস্তারিত পড়ুন।

কমেছে পাটের দর, বেড়েছে উৎপাদন খরচ, সংকট মেটাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান চাষিরা
  • ২৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা,  তেহট্ট :  মাঠজুড়ে  পাট কাটার ব্যস্ততা। বর্ষার জলে পাট জাগ দেওয়ার তোড়জোড়ও শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সেই পাটই এখন তেহট্টের চাষিদের দুশ্চিন্তার কারণ। বাজারে পাটের দর নিম্নমুখী। অন্যদিকে, মাঠে শ্রমিকের দেখা মিললেও তাঁদের মজুরিও বেশ চড়া। ফলে পাটের দাম ও উৎপাদন খরচের ফারাকে কার্যত নাভিশ্বাস উঠেছে চাষিদের। তাঁদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী দিনে পাটচাষ থেকে মুখ ফেরাতে বাধ্য হবেন অনেকেই। চাষিদের দাবি, চলতি মরশুমের শুরুতে পাটের দাম ভালো থাকবে বলে আশা করেছিলেন তাঁরা।  বর্তমানে বাজারে পাটের দর কুইন্টাল প্রতি ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। সেই তুলনায় পাট চাষে সার, বীজ, কীটনাশক থেকে শুরু করে শ্রমিকের পিছনে বিপুল টাকা খরচা হচ্ছে। বিশেষ করে পাট কাটার সময় শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।  চাষিদের একাংশের দাবি, বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক পাট কাটার কাজ করছেন বহু শ্রমিক। তাতে একজন শ্রমিক দৈনিক এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জন করছেন। এর ফলে পাট কাটা, আঁটি বাঁধা এবং জলে জাগ দেওয়ার মতো প্রতিটি কাজেই খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সব মিলিয়ে বাজারে পাট বেচে উৎপাদন খরচ মেটানোই কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। এক পাটচাষির কথায়, মরশুমের শুরুতে ভেবেছিলাম পাটের দাম ভালো থাকবে। কিন্তু এখন বাজারে দাম কমে গিয়েছে। এত খরচ করে চাষ করে যদি লাভ না হয়, তা হলে আগামী দিনে পাট চাষ করব কীভাবে?

Advertisement

চাষিদের অভিযোগ, পাটের বাজারদর ও উৎপাদন খরচের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকায় তাঁদের অনেকেই ঋণের বোঝায় জড়ানোর আশঙ্কা করছেন। তেহট্টের পাট চাষিদের দাবি, শুধু পাটের দাম নির্ধারণ করলেই হবে না, উৎপাদন খরচ কমানো ও শ্রমিক সংকট মেটাতেও প্রশাসনকে উদ্যোগী হতে হবে। না হলে একসময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অর্থকরী ফসলের চাষে ধস নামতে পারে বলেই আশঙ্কা তাঁদের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ