Bartaman Logo
৬ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাঁক দেওয়ার জন্য পুকুরের ভাড়া মিটিয়ে পাট চাষে লাভ কই! প্রবল দুশ্চিন্তায় চাষিরা

শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুন৷ জমিতে পাট কাটা থেকে আঁশ ছাড়ানো৷ খরচ বেড়েছে৷ পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পুকুর ভাড়া করেও জাঁক দিতে হচ্ছে চাষিদের৷

জাঁক দেওয়ার জন্য পুকুরের ভাড়া মিটিয়ে  পাট চাষে লাভ কই! প্রবল দুশ্চিন্তায় চাষিরা
  • ৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুন৷ জমিতে পাট কাটা থেকে আঁশ ছাড়ানো৷ খরচ বেড়েছে৷ পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পুকুর ভাড়া করেও জাঁক দিতে হচ্ছে চাষিদের৷ এতকিছু করেও চাষের খরচ উঠবে তো? এমন চিন্তাতেই ঘুম উড়েছে কাটোয়া, পূর্বস্থলীর চাষিদের৷ 

Advertisement

এবার শুধু আঁশ ছাড়ানোর জন্য শ্রমিকদের মজুরি গুনতে হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত। তার উপরে জাঁক দেওয়ার জায়গায় পাটের বোঝা নিয়ে যেতে মোটা টাকা গাড়ি ভাড়া দিতে হচ্ছে৷ পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পুকুর ভাড়া করতে হচ্ছে মোটা টাকায়৷ এতসব মিটিয়ে লাভের গুড় পিঁপড়ে খাওয়ার মত অবস্থা হয়েছে পাটচাষিদের৷ 
কাটোয়া মহকুমা জুড়ে প্রায় গড়ে ৯৭৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়।  এরমধ্যে কাটোয়া-১ ব্লকে গড়ে প্রায় ১৭০, কাটোয়া-২ ব্লকে প্রায় ৪৬৫, কেতুগ্রাম-১ ব্লকে প্রায় ৬৫, কেতুগ্রাম-২ ব্লকে প্রায় ২১৫ ও মঙ্গলকোটে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে গড়ে পাট চাষ হয় প্রতি বছর। আর পূর্বস্থলী -২ ব্লকে প্রায় চার হাজার হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়। কাটোয়া-২ ব্লকে অগ্রদ্বীপ, জগদানন্দপুর, গাজিপুর পঞ্চায়েত এলাকায় বেশি পাট চাষ হয়। কেতুগ্রাম-২ ব্লক এলাকায় সীতাহাটি, মৌগ্রাম প্রভৃতি অঞ্চলে বেশি পাট চাষ হয়। চাষিরা জানান, এবারে শ্রমিকদের মজুরি মেটাতে হচ্ছে ৬৫০ -৭৫০ টাকা পর্যন্ত৷ গতবার সেখানে মজুরি দিতে হয়েছিল ৩৬০ -৪৫০ টাকা৷ এবারে পাটের দাম এখন ভালো মানের ৯০০০ - ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত৷ আর মোটামুটি মানের পাট এবার ৭০০০ টাকা ক্যুইন্টাল দাম পাওয়া যাচ্ছে৷ গতবারের তুলনায় এবারে পাটের দাম বেড়ে যেতেই নাকি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে৷ 
কিন্তু চাষিদের দাবি, পাট চাষে খরচ অনেক৷ বিঘা প্রতি জমিতে ৪ থেকে ৫ ক্যুইন্টাল পাট পাওয়া যায়৷ সেখানে ৪ জন শ্রমিককেই এবার মজুরি মেটাতে হচ্ছে ২৮০০ টাকার বেশি৷ তার উপরে বিঘা প্রতি এক হাজার টাকা করে পুকুর ভাড়া দিতে হচ্ছে৷ জমি থেকে পাট জাঁক দেওয়ার জন্য পুকুর, বা সেচখালে নিয়ে যেতে মোটা টাকা গাড়ি ভাড়া দিতে হচ্ছে৷ কাটোয়াএ অগ্রদ্বীপের পাটচাষি তপন ঘোষ, সমীর ঘোষ বলেন, এতকিছু খরচ মিটিয়েও চাষের খরচটুকু উঠবে কিনা সন্দেহ আমাদের৷ মুর্শিদাবাদ, কালনার ধাত্রীগ্রাম, বাঘনাপাড়া এসব এলাকা থেকে অগ্রদ্বীপে শ্রমিক আসেছেন৷ কিন্তু তাঁরা মজুরির বিষয়ে একজোট হয়েছেন৷ ৭৫০ টাকার নীচে কেউ আসতেই চাইছেন না৷ কারণ জাঁক দেওয়া জলে নেমে পাটের আঁশ ছাড়ানোটা পরিশ্রমে৷ কেউ জলে নামতেই চাইছেন না৷ 
পূর্বস্থলী-২ ব্লকের মাজিদা পঞ্চায়েতের আটপাড়া-সহ একাধিক এলাকাতেও একই চিত্র৷ এই বাড়তি মজুরি নিয়ে উদ্বিগ্ন চাষিরা। 
জুট কর্পোরেশন অব ইণ্ডিয়া লিমিটেডের কাটোয়া আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গুনগত মান অনুযায়ী দাম পাওয়া যায়। তারকারণ মিলগুলো মান খারাপ হলেই নিতে চাইবে না। তখন কর্পোরেশনের গোডাউনে ফেলে রাখা ছাড়া উপায় থাকবেনা। ২০২৪-২৫ বর্ষে কাটোয়াতে এক হাজার ক্যুইন্টাল পাট সংগ্রহ করেছিল চাষিদের থেকে৷ 
কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সাধারণত  পাটের ১২০ দিন বয়সে জলে জাঁক দিতে হয়। আর বয়স বেড়ে গেলেই অর্থাৎ ১২০ দিনের বেশি বয়স হলেই তন্তুজের মান ও রং খারাপ হয়। তবে জল বেশি থাকলে জাঁক দেওয়া ভালো হয়। তাতে মান ও রং দুটোই ভালো হয়। মূল সমস্যা হচ্ছে পাট পচানোর৷ গতবার ভাগীরথীতে জল বেড়ে যাওয়ার কারণে তীরবর্তী এলাকা গুলোতে  সেই সমস্যা হয় নি৷ এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাব রয়েছে৷ অনেকে নিজের জমিতে খাল কেটে জল কিনে ভরে জাঁক দিচ্ছেন৷ কিন্তু তাঁদের আশঙ্কা পাটের রঙ ভালো হবে কিনা৷ -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ