নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আলু চাষিদের মতো বিপাকে পড়েছেন পাট চাষিরাও। তাঁরাও দাম পাচ্ছেন না। আলু এখন হিমঘরে। আর পাট কাটার কাজ চলছে। হিমঘরে আলু রেখে চাষিরা দাম পাওয়া নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু এখন বন্ড ১১০-১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ চাষিরা কেজিতে দু’ থেকে আড়াই টাকা দাম পাচ্ছেন। আর পাট চাষিরা কুইন্টালে আট থেকে সাড়ে আট হাজার টাকা দাম পাচ্ছেন। চাষের খরচ তুলতে হিমশিম তাঁরা। পাট কাটা এবং পচানোর জন্য শ্রমিকদের পারিশ্রমিক বেড়েছে। জমি থেকে পাট পরিবহণের জন্য ট্রাক্টর ভাড়া বেড়েছে। কিন্তু দাম না বাড়ায় চাষিদের মাথায় হাত। তাঁরা বলছেন, দু’ বছর আগেও পাটের দাম কমে গিয়েছিল। হতাশ হয়ে অনেকেই পাট চাষ করেননি। তার ফলে জুটমিলগুলিতে সমস্যা দেখা যায়। এভাবে দাম কমতে থাকলে আগামী দিনেও অনেকেই চাষে উৎসাহ হারাবেন।
পাট চাষি জাহাঙ্গির শেখ বলেন, এক বিঘা জমিতে সাড়ে চার থেকে পাঁচ কুইন্টাল পাট উৎপাদন হয়। চাষের খরচ অনেক বেড়েছে। কুইন্টাল পিছু ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা দাম পাওয়া গেলে চাষিরা লাভের মুখ দেখবেন। এখন যা অবস্থা তাতে অনেকে পাট কাটতে ভয় পাচ্ছেন। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর দু’টি ব্লকে পাট চাষ বেশি হয়। এছাড়া জেলার আরও কয়েকটি জায়গাতেও বিক্ষিপ্ত ভাবে পাট চাষ হয়। আরেক চাষি বলেন, শ্রমিকের মজুরি ৭০০ টাকার বেশি। পেট্রপণ্যের দাম বাড়ায় ট্রাক্টর ভাড়া বেড়েছে। কিন্তু পাটের দাম বাড়া তো দূরের কথা, উল্টে কমছে।
আলু চাষি এবং ব্যবসায়ীদেরও চিন্তায় ঘুম উড়ে গিয়েছে। আলু ব্যবসায়ী স্বপন মণ্ডল বলেন, সরকারের বিকল্প চিন্তাভাবনা করা দরকার। তা না হলে চাষিরা মারা পড়বেন। বাজারে কেজি প্রতি ১০ টাকার বেশি দামে আলু বিক্রি হচ্ছে। অথচ চাষিরা দু’ থেকে আড়াই টাকা দাম পাচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আলু চাষও কমে যাবে। চাষি সহদেব দাস বলে, যত দিন যাচ্ছে হিমঘরে রাখা আলুর দাম তত কমছে। অন্যান্য বছর পুজোর মরশুমে ভালো দাম পাওয়া যায়। এবার সেটা হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আলু বিক্রি করেই ধান চাষের খরচ উঠত। এখন হিমঘরে থাকা আলু সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না। চাষিরা বলছেন, মাঝে কয়েক বছর ভিন রাজ্যে আলু পাঠানো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তার খেসারত এখন চাষিদের দিতে হচ্ছে। ওড়িশা, অসমের মতো রাজ্যগুলি বিকল্প ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া গত বছর পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশেও ব্যাপক আলুর ফলন হয়েছিল। সেই রাজ্যগুলি থেকে অন্যত্র আলু পাঠানো হচ্ছে।