নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কিছু জুনিয়র চিকিত্সক আছেন যাঁরা মাওবাদী, মার্কসবাদী ও লেনিনবাদী। এমনই মন্তব্য করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরে চিকিত্সকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ জুনিয়র চিকিত্সকরা। তাঁরা বলছেন, শাসকের ভাষা এমনই হয়।
চোরবাগানে দূর্ঘটনার পর আহতদের কেন মেডিকাল কলেজ থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? প্রশ্ন তুলেছিলেন জুনিয়র চিকিত্সকরা। তারপর থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। সরকার ও জুনিয়র চিকিত্সকদের মধ্যে বাকযুদ্ধ চলছেই। সেই আবহেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে নতুন করে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। চোরবাগানের ঘটনার দিন আহতদের কেন সরানো হয়েছিল? এই প্রশ্ন তুলেছিলেন মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন সৌম্যদীপ দে। তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য শুনে বলছেন, ‘জুনিয়র চিকিত্সরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। আমাদের এতটাই কাজের চাপ থাকে যে, নিজেদের ছুটি পর্যন্ত নিতে পারি না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের সমস্যার কথাবার্তা শুনছেন না। মোটামুটি পিজিটি, ইন্টার্নদের দিয়েই হাসপাতাল চলে। আমরা এখানে রাজনীতি করতে আসিনি। আমরা সমস্যার কথা তুলে ধরেছি বলে মাওবাদী বলছেন। আগের মুখ্যমন্ত্রীও একই কথা বলতেন।’
এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, এঁরাই সমগ্র জুনিয়র চিকিত্সক নন। কিছু মাওবাদী, লেনিনবাদী ও মার্কসবাদী চিকিত্সক টাকার বিনিময়ে ডিউটি পরিবর্তন করেন। সৌম্যদীপের পালটা প্রশ্ন, ‘এটা তো কর্তৃপক্ষের দেখার কথা। যদি সত্যি হয়, এই তথ্য আমরা মুখ খোলার পর কেন বেরল? তারা ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না কেন?’
এই বিষয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘আর জি কর আন্দোলনের সময় শুধু নর্থ বেঙ্গল লবির থ্রেট কালচারের কথা শোনা যেত। এখন নর্থ-সাউথ সমস্ত লবি এক হয়ে গিয়ে থ্রেট কালচার শুরু করেছে।’



