Bartaman Logo
১৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

বিপদ জঙ্গল ম্যালেরিয়ার, সচেতনতার প্রচারে জেলা প্রশাসন

ঝাড়গ্রামে তীব্র গরমে মশার বংশবৃদ্ধি হচ্ছে। জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কিন্তু দীর্ঘদিনের। জেলাজুড়ে ম্যালেরিয়া নিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তর প্রচার চালাচ্ছে। বিশেষ করে জঙ্গল লাগোয়া গ্ৰামের বাসিন্দাদের সতর্কভাবে বনে ঢোকার জন্য বলা হচ্ছে।

বিপদ জঙ্গল ম্যালেরিয়ার, সচেতনতার প্রচারে জেলা প্রশাসন
  • ৬ মে, ২০২৬ ২০:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে তীব্র গরমে মশার বংশবৃদ্ধি হচ্ছে। জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কিন্তু দীর্ঘদিনের। জেলাজুড়ে ম্যালেরিয়া নিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তর প্রচার চালাচ্ছে। বিশেষ করে জঙ্গল লাগোয়া গ্ৰামের বাসিন্দাদের সতর্কভাবে বনে ঢোকার জন্য বলা হচ্ছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভূবনচন্দ্র হাঁসদা বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার চলছে। মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। জঙ্গল লাগোয়ো গ্ৰামে জঙ্গল ম্যালেরিয়া নিয়ে সচেতনতা প্রচারে জোর বাড়ানো হয়েছে।

Advertisement

ঝাড়গ্রাম জঙ্গল অধ্যুষিত এলাকা। আদিবাসী ও জনজাতি গোষ্ঠীর মানুষের জীবিকা এই অরণ্যের উপরই নির্ভরশীল। বন দপ্তরের  নির্দেশ মেনে বনসুরক্ষা কমিটির সদস্যরাও গাছ কাটতে জঙ্গলে যান। জঙ্গলের ভিতর শাল ও কেন্দু পাতা সংগ্রহের জন্য  ঢোকেন তাঁরা। জেলার জঙ্গল এলাকাগুলিতে গরমের সময়ে ‘জঙ্গল ম্যালেরিয়ার’ প্রকোপ বাড়ে। বহু মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন। বর্ষার সময় মশার উৎপাতের  সঙ্গে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে বলে মনে করা হত। জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে সেই ধারণার এখন অনেক বদলে গিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দাবি মতে ম্যালেরিয়ার মশা অ্যানোফিলিস স্টিফেনসাই গরমের সময় বেশি ডিম পাড়ছে। তীব্র গরমে এই ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ মশার পরিবর্তন দ্রততার সঙ্গে ঘটছে। মশার কামড়ে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। জেলায় ২০২৪ সালে ২২৪ জন ও ২০২৫ সালে ১৪০ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। শহর ও গ্ৰামীণ এলাকায় ম্যালেরিয়া নিয়ে সচেতনতার প্রচার চলছে। জঙ্গল লাগোয়া গ্ৰামগুলিতে সচেতনতা প্রচারে বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, সাধারণ ম্যালেরিয়ার চেয়ে জঙ্গল ম্যালেরিয়া বেশি সংক্রামক। ফুসফুস, কিডনি ও মস্তিষ্কে দ্রুত প্রভাব ফেলে এই রোগ। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। জঙ্গল লাগোয়া গ্ৰাম ও জঙ্গলের ভিতরে যাওয়া মানুষজনও এই রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন। বেলপাহাড়ীর সিঙ্গডোবার বাসিন্দা করন টুডু বলেন,  শরীরের সবটা ঢেকে শুকনো গাছ কাটা বা কেন্দু পাতা সংগ্রহ করা যায় না। মশার কামড় খেয়ে অনেকেই অসুস্থ হন।  আগের চেয়ে চিকিৎসা পরিষেবা ভালো মেলায় এখন ঝুঁকি খানিক কমেছে। জামবনী ব্লকের বিএমওএইচ প্রসেনজিৎ নায়েক বলেন, সারাবছর ধরেই ম্যালেরিয়া নিয়ে সচেতনতার প্রচার চলে। জেলায় বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসকে সামনে রেখে সচেতনতা মূলক নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছ। এখানে জঙ্গল ম্যালেরিয়া নিয়েও সচেতনতা চালানো হচ্ছে। জঙ্গলে যাঁদের নিত্যদিন যেতে হয় তাঁদের ফুলহাতা জামা ও শরীর ঢেকে যাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। বাড়ির চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার জন্য বলা হচ্ছে। অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ