Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পরেশের গরহাজিরায় ক্ষুব্ধ বিচারক, নির্দেশের পর পেশ মেডিকেল রিপোর্ট

নারকেলডাঙায় বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার হত্যা মামলায় সোমবার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল  গরহাজির থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল আদালত। এদিন কলকাতার বিচারভবনের বিশেষ আদালতে ছিল এই মামলার শুনানি।

পরেশের গরহাজিরায় ক্ষুব্ধ বিচারক, নির্দেশের পর পেশ মেডিকেল রিপোর্ট
  • ২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নারকেলডাঙায় বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার হত্যা মামলায় সোমবার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল  গরহাজির থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল আদালত। এদিন কলকাতার বিচারভবনের বিশেষ আদালতে ছিল এই মামলার শুনানি। সেখানে তাঁর কৌঁসুলি জানান, তাঁর মক্কেল অসুস্থ। এই বিষয়ে পিটিশনও দেওয়া হয়েছে। শুনানি চলাকালে বিচারক জানতে চান, অভিযুক্তের কী হয়েছে? সেইমর্মে আদালতে যাবতীয় মেডিকেল রিপোর্ট পেশ করা হোক। না-হলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে। 

Advertisement

সিবিআইয়ের তরফেও জানানো হয়, এর আগের শুনানিতেও এই অভিযুক্ত গরহাজির ছিলেন। আদালতের কড়া পদক্ষেপের পরই তড়িঘড়ি অভিযুক্তের মেডিকেল রিপোর্ট কোর্টে পেশ করার যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়। এরপরই বিচারক আগামী ১১ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। এই মামলায় এদিন জেল থেকে হাজির করা হয় ১২ জন অভিযুক্তকে। জামিনে থাকা বাকি অভিযুক্তরা কোর্টে হাজির ছিলেন। একমাত্র গরহাজির ছিলেন তৃণমূল নেতা পরেশ পাল। এনিয়ে এদিন এজলাসে জোর শোরগোল সৃষ্টি হয়। এই মামলায় এখনো চার অভিযুক্ত ‘ফেরার’। তাদের বিরুদ্ধে প্রথমে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, পরে ‘হুলিয়া’ জারির নির্দেশ দেয় আদালত।
২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নারকেলডাঙা থানা এলাকায় নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে। সেই মামলায় পরবর্তী সময় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সিবিআই। কেন্দ্রীয় ওই এজেন্সি তদন্তে নেমে একে একে অভিযুক্তদের পাকড়াও করে। যারা পালিয়ে বেড়াচ্ছিল, তাদেরকে খুঁজে পেতে সিবিআই মাথা পিছু ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করে। পরবর্তীকালে বেশ কয়েকজন পলাতকও সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়ে। 
নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এই মামলার শুনানিও শুরু হয়েছিল। মৃত বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের মায়ের সাক্ষ্যও শুরু হয়। অসুস্থ থাকায় বাড়ি থেকে তাঁর সাক্ষ্য চলছিল ভার্চুয়ালে। কিন্তু পরবর্তীকালে পর পর বেশ কয়েকজন অভিযুক্ত ধরা পড়ায় ফের পিছিয়ে যায় মামলার সাক্ষ্যদানপর্ব। আইনের বিধান অনুসারে যেকোনো মামলায় বিচার শুরু হলে ফের নতুন করে চার্জ গঠন করে শুনানি শুরু করাটাই দস্তুর। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই মামলার দ্রুত বিচার চাইছে নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবার। সোমবার কোর্ট চত্বরে দাঁড়িয়ে মৃত অভিজিতের দাদা বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, ‘হাজার কষ্ট হলেও ভাইয়ের মৃত্যুতে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনি এই আইনি লড়াই চলবে।’ একই দাবি করেছেন তাঁর বৃদ্ধা মা মাধবী ঘোষও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ