Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

জয়সওয়ালের রান আউটই টার্নিং পয়েন্ট

জয়সওয়ালের রান আউটই টার্নিং পয়েন্ট
  • ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
মেলবোর্ন: আচমকা রং বদলই টেস্ট ক্রিকেটের মজা। কখন কোথায় কীভাবে যে পাল্টে যায় ম্যাচের গতিপথ, কল্পনাও করা যায় না। শুক্রবার এমসিজি সাক্ষী থাকল তেমনই নাটকীয়তার। পড়ন্তবেলায় যশস্বী জয়সওয়ালের দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের সঙ্গে সঙ্গে ফুটে উঠল ভারতীয় ব্যাটিংয়ের হতশ্রী দশা। মাত্র ৬ রানের মধ্যে পড়ল তিন-তিনটি উইকেট। পলকের মধ্যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে গেল অস্ট্রেলিয়ার মুঠোয়। অথচ তার আগে বিরাট কোহলির সঙ্গে যশস্বীর জুটিতে উঠে গিয়েছিল একশোর বেশি রান। একটা সময় মনে হচ্ছিল, প্রথম ইনিংসে হোমটিমের ৪৭৪ রানের জবাবে বড় স্কোরই খাড়া করবে ভারত। ভাবাই যায়নি, সেখান থেকে শুকনো উঠোনে এভাবে পা পিছলে আছাড় খাবে রোহিত-ব্রিগেড।
Advertisement
ঘাটতি এখনও ৩১০ রানের, ফলো-অন এড়াতেই প্রয়োজন আরও ১১১। রীতিমতো কোণঠাসা দেখাচ্ছে ভারতকে। টেস্টের বাকি আরও তিন দিন। শনিবার ঋষভ পন্থ, রবীন্দ্র জাদেজার বড় জুটির দিকেই তাকিয়ে শিবির। নীতীশ রেড্ডি, ওয়াশিংটন সুন্দরদেরও ব্যাট হাতে নিতে হবে ভূমিকা। অন্যথায়, হার বাঁচানো খুব কঠিন। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালকেও দেখাচ্ছে বড্ড দূরের স্টেশন। অবশ্য যে দলকে একার হাতে টেনে চলেছেন যশপ্রীত বুমরাহ, তাদের ফাইনালে না ওঠাই শ্রেয়। অধিনায়ক রোহিত শর্মা আর কতদিন ব্যর্থ হয়েও জায়গা আটকে রাখবেন? আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ বিরাট। শেষ পর্যন্ত কিপারকে খোঁচা দিয়েই ফিরলেন তিনি। মহারথীরা যদি দিনের পর দিন ডোবান, তাহলে আর একা বুমবুম কী করবেন?
ভারতের জন্য দিনটা শুরুও হয়েছিল অত্যন্ত খারাপভাবে। সমর্থকদের ধারণা ছিল, হয়তো সাড়ে তিনশোর মধ্যে গুটিয়ে ফেলা যাবে অজিদের। কিন্তু, টেস্টে ৩৪তম সেঞ্চুরিতে সেই আশায় জল ঢাললেন স্মিথ। প্রথম সেশনে ২৭ ওভারে ১৪৩ রান যোগ করে অস্ট্রেলিয়া। সপ্তম উইকেটে কামিন্সের সঙ্গে স্মিথের যোগদান ১১২। পরপর দুটো টেস্টে শতরান পেলেন তিনি। স্মিথের ১৪০ রানের ইনিংসে ছিল ১৩টা চার ও তিনটি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত পৌনে পাঁচশোয় দাঁড়ি পড়ে অজি ইনিংসে।  
ঝলমলে রোদের মধ্যে শুরু হয়েছিল ভারতীয় ইনিংস। পিচে কোনও জুজুও ছিল না। কিন্তু কামিন্সের শর্টপিচ ডেলিভারিতে ওপেনিংয়ে ফেরা রোহিত চামচের মতো ক্যাচ তুললেন মিড অনে। তিনে নামা লোকেশ রাহুল অবশ্য যথারীতি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। চায়ের বিরতির ঠিক আগে কামিন্সের অসাধারণ ডেলিভারিতে বোল্ড হলেন তিনিও। বিরাট মন্দ খেলছিলেন না। বাইরের বল ছাড়ছিলেন। একবার অনবদ্য কভার ড্রাইভও মারলেন। কিন্তু ভুল বোঝাবুঝিতে যশস্বী রান আউট হতেই বিগড়ে গেল ছন্দ। চলতি সিরিজের দ্বিতীয় শতরান নিশ্চিত দেখাচ্ছিল জয়সওয়ালের। তাঁর ফেরাই হয়ে উঠল টার্নিং পয়েন্ট। কোহলির পর আউট হলেন নৈশপ্রহরী হিসেবে নামা আকাশ। রক্তের স্বাদ পেয়ে যাওয়া বাঘের মতোই শেষলগ্নে উদ্দীপ্ত দেখাল অজিদের, যা ভারতীয় শিবিরের রাতের ঘুম উড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্টই।
সম্পর্কিত সংবাদ