Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

জরুরি অবতরণের পর পাঁচিলে ধাক্কা বিমানের, মৃত ১৭৯ যাত্রী

জরুরি অবতরণের পর পাঁচিলে ধাক্কা বিমানের, মৃত ১৭৯ যাত্রী
  • ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সিওল: রানওয়ের উপর ঘষা খেতে খেতে এগিয়ে যাচ্ছিল যাত্রীবাহী বিমান। নিমেষের মধ্যেই রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে পাঁচিলে ধাক্কা খায় বিমানটি।  সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। বছরের শেষ রবিবার এমনই ভয়াবহ দৃশ্যের সাক্ষী থাকল দক্ষিণ কোরিয়ার মুয়ান বিমানবন্দর। দুর্ঘটনায় জেজু এয়ারের ওই বিমানের ১৭৯ যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার করা গিয়েছে মাত্র দু’জন বিমানকর্মীকে। মৃতদের মধ্যে দু’জন থাইল্যান্ডের নাগরিক। দক্ষিণ কোরিয়ার কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্ট চোই সাং-মোকের শোকবার্তা, ‘কোনও সান্ত্বনাতেই স্বজন হারানোর এই যন্ত্রণা মোছা যাবে না।  মৃতদের পরিবারের পাশে রয়েছে প্রশাসন।’  তিনি সাতদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন।
Advertisement
এদিন ব্যাঙ্কক থেকে ফিরছিল বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমানটি। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, আকাশে পাখির সঙ্গে ধাক্কা লাগার কারণেই এই বিপত্তি। একটি ভিডিওতে অবতরণের আগে বিমানের ডানদিকের ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বেরতে দেখা গিয়েছে।  দক্ষিণ কোরিয়ার পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, অবতরণের আগে পাখির আঘাত নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছিল বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার। অন্য একটি জায়গায় অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। রানওয়ে থেকে ছিটকে যাওয়ার আগে ডিস্ট্রেস সিগন্যাল পাঠিয়েছিলেন পাইলটও। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। 
থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল জেজু এয়ার ফ্লাইট ৭সি ২২১৬। যাত্রী ও কর্মী মিলিয়ে সওয়ার ছিলেন ১৮১ জন। মুয়ানে অবতরণের সময় দুর্ঘটনা ঘটে। আটকে যায় ল্যান্ডিং গিয়ার (বিমানের চাকা)। সেজন্য ‘বেলি ল্যান্ডিং’য়ের সিদ্ধান্ত নেন পাইলট। কিন্তু গতি বেশি থাকায় রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে পাচিলে ধাক্কা মারে বিমানটি। নিমেষের মধ্যে আগুন ধরে যায়। 
দুর্ঘটনার পরই দমকল ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা চলে আসেন। মুয়ান দমকল কেন্দ্রের প্রধান লি জিওং-হিওন জানান, ধ্বংসাবশেষের মধ্যে বিমানের লেজের অংশ ছাড়া কিছুই চেনা যাচ্ছিল না। তাঁর কথায়, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, পাখির সঙ্গে ধাক্কা লাগার কারণেই এই দুর্ঘটনা। তবে খারাপ আবহাওয়াও কারণ হতে পারে। তদন্ত রিপোর্ট সামনে এলে সব স্পষ্ট হবে।’  
দুর্ঘটনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন পাইলটদের একাংশ। তাঁদের দাবি, মুয়ান বিমানবন্দরের ওই রানওয়ের দৈর্ঘ্য তিন কিলোমিটারের কম। ‘বেলি ল্যান্ডিং’-এর সময় দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের গতি অনেক বেশি ছিল। বিমানে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়লে বিমানবন্দরের উপরেই চক্কর কাটেন পাইলট। এক্ষেত্রে তেমন কিছুই হয়নি। বিমানের দু’টি ব্ল্যাক বক্স (ককপিট ভয়েস রেকর্ডার, ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার) উদ্ধার করা হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ