নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: দলের জন্মলগ্নের কর্মী। বহু লড়াই আন্দোলনের সাক্ষী। নিজেকে সবসময় ‘দিদির লোক’ বলেই দাবি করতেন পুরুলিয়া জেলার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর তাঁকে জেলা পরিষদের কো-মেন্টর করেছিল দল। ২০২৩ সালে জেলা পরিষদের নতুন বোর্ড গঠন হওয়ার পরেও সেই পদেই তাঁকে বহাল রেখেছিল দল। কিন্তু হঠাৎ করেই দীর্ঘ সাত বছর পর কো-মেন্টর পদ থেকে অপসারণ করা হল জয়কে। জেলা পরিষদের নতুন কো-মেন্টর হয়েছেন দলের দীর্ঘদিনের কর্মী সহদেব মাহাত। তবে জয়কে কেন অপসারণ করা হল এনিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
গত সোমবারই পঞ্চায়েত দপ্তর থেকে একটি চিঠি এসে পৌঁছয় জেলাশাসক রজত নন্দার কাছে। চিঠিতে সহদেব মাহাতকে কো-মেন্টর পদে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। কাশীপুরের বাসিন্দা সহদেব মাহাত দলেরই পুরনো কর্মী। ১৯৮০-৮১ সাল নাগাদ জে কে কলেজের ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই দলের কর্মী। বর্তমানে জেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। বরাবরই জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া ও প্রাক্তন বিধায়ক স্বপন বেলথরিয়ার বিরুদ্ধ গোষ্ঠী হিসাবেই পরিচিত সহদেব। তা হলে কোন অঙ্কে দায়িত্ব পেলেন তিনি? সেই চর্চায় না গিয়ে নতুন দায়িত্ব পেয়ে আপ্লুত সহদেব বলেন,‘যে দায়িত্ব পেয়েছি তা যথাযত পালন করব। এই পদে থেকে কিভাবে জেলার ও জেলার বাসিন্দাদের উপকার করতে পারি, সেই চেষ্টা করব।’
অন্যদিকে, কেন জয়কে পদ থেকে অপসারণ করা হল? সূত্রের খবর, জেলা পরিষদের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর জনপ্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরেই জয়ের বিরুদ্ধে গোপনে বিভিন্ন জায়গায় নালিশ জানাচ্ছিলেন। সম্প্রতি জেলা পরিষদের দুই শীর্ষস্থানীয় জনপ্রতিনিধি এনিয়ে রাজ্যের এক মন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেন। তারপরেই এই রদবদল। এনিয়ে জয়ের অবশ্য দাবি, ‘আমি দুর্নীতি দেখলে প্রতিবাদ করতাম, জেলা পরিষদে কোনও অনিয়ম দেখলে সরব হতাম, তাতে সমস্যায় পড়ছিলেন বেশকিছু জনপ্রতিনিধি। সেই জন্যই আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি না এটা দিদি, কিংবা অভিষেকের সিদ্ধান্ত কি না। দিদি যদি জানতেন তাহলে নিশ্চয় জেলা সভাপতিও জানতেন। কিন্তু জেলা সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি কিছুই জানেন না বলছেন। এর পিছনে বড় চক্রান্ত আছে। দলের সিনিয়ার এক নেতা এতে জড়িত আছেন।’ তবে ওই সিনিয়ার নেতার নাম স্পষ্ট করেননি জয়। জেলা সভাপতি সৌমেনও মানছেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এটা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ব্যাপার।’ এনিয়ে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি গৌতম রায়ের কটাক্ষ, ‘জেলা পরিষদের এই মেন্টর, কো মেন্টর পদগুলো খায় না মাথায় দেয়? মানুষের করের টাকায় এঁরা গাড়ির তেল ভরে, বেতন নেয়। এইসব পদ তুলে দেওয়া উচিত।’ জয় বন্দ্যোপাধ্যায়।-নিজস্ব চিত্র