Bartaman Logo
১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তিন সপ্তাহে দার্জিলিংয়ে ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি বাড়ি, মন্ত্রীকে তথ্য দিল প্রশাসন

মাত্র তিন সপ্তাহে পাহাড়ে ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি বাড়ি। শুক্রবার স্বারাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামার কাছে এই তথ্য তুলে ধরেছে দার্জিলিং জেলা প্রশাসন।

তিন সপ্তাহে দার্জিলিংয়ে ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি বাড়ি, মন্ত্রীকে তথ্য দিল প্রশাসন
  • ১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, দার্জিলিং: মাত্র তিন সপ্তাহে পাহাড়ে ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি বাড়ি। শুক্রবার স্বারাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামার কাছে এই তথ্য তুলে ধরেছে দার্জিলিং জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে তারা পাহাড়ে এসডিআরএফের দু’টি টিম মোতায়েন করেছে। বিপর্যয় মোকাবিলায় শীঘ্রই এসএসবি, বিএসএফ, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ’কে নিয়ে যৌথ মকড্রিল করা হবে। পাহাড়ে মোতায়েন করা হবে ১০০ জনের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ (ডিএমজি)। টিমের সদস্যরা হবেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান। সবটা শোনার পর ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানোর নির্দেশ মন্ত্রী দিয়েছেন বলে খবর। 

Advertisement

পরে মন্ত্রী জানান, পাহাড় ধসপ্রবণ। এজন্য প্রশাসনকে সর্বদা সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি বর্ষার মরশুমে এখনও পর্যন্ত কিছু এলাকায় ধসে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেই ক্ষয়ক্ষতির তালিকাও প্রশাসনকে প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। 
দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ের গোটা এলাকাই ধসপ্রবণ। চলতি বর্ষার মরশুমে সংশ্লিষ্ট দুই জায়গাতেই অসংখ্যা ধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, গত ১০ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত শুধুমাত্র দার্জিলিং জেলার পাহাড়েই ছোটো-বড়ো মিলিয়ে দেড়শোরও বেশি ধসের ঘটনা ঘটে। যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ধসের সংখ্যা ৫০টি। এতে বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫০টি। এদিন মন্ত্রীর পর্যালোচনা বৈঠকে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে জেলা প্রশাসন। এরপর ত্রাণ শিবিরের অবস্থা, রাস্তা, নদী ও ঝোরার গতিবিধি সম্পর্কে খোঁজ নেন মন্ত্রী। 
এদিনের বৈঠকে অতিরিক্ত জেলাশাসক (বিপর্যয়) সুরেশ যাদব, অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) রাম তামাং সহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা ছিলেন। ভার্চুয়ালি মিটিংয়ে জেলার সমতল শিলিগুড়ির বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত হয়েছিলেন। বৈঠকে গোটা জেলায় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার জন্য এবার পাহাড়ে ইন্ট্রিগ্রেটেড ডিস্ট্রিক্ট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (আইডিইওসি) চালু করা হয়েছে। তাতে বিপর্যয়, পুলিশ, দমকল, পূর্ত, স্বাস্থ্য, পিএইচই সহ ১৫টি দপ্তরের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করা হয়েছে। এবার এখনও পর্যন্ত পাহাড়ের দেড়শোটি এলাকা থেকে ছোটো-বড়ো ধসের খবর মিলেছে। 
প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ধস মোকাবিলায় সেভকে এবং সুখিয়াপোখরিতে এসডিআরএফের দু’টি টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এনডিআরএফের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে। শীঘ্রই পাহাড়ে ধস এবং নদী ও ঝোরার জলস্ফীতি মোকাবিলায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিকে নিয়ে যৌথভাবে মকড্রিল করা হবে। এছাড়া, দুর্গম এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় স্যাটেলাইট ফোন,  পুলিশের আরটি সেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 
এরবাইরে এদিন দার্জিলিং পুরসভা ও জিটিএ নিয়েও বৈঠক করেন মন্ত্রী। পরে তিনি বলেন, আগামী চার-পাঁচ মাসের মধ্যে পাহাড়ের তিনটি পুরসভায় ভোট হবে। জিটিএতেও উন্নয়নমূলক কাজে জোয়ার আসবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ