


ওমোলোজা: সুদূর নাইজেরিয়াতে বসেও বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতায় ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকদের মনের অবস্থাটা ভালোই টের পাচ্ছি। এই ছবিটা যে বড্ড চেনা। ২০০১ সালে আমার জোড়া গোলেই প্রথমবার জাতীয় লিগ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল মশাল বাহিনী। সেবারও অনেকটা একই অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল লিগের লড়াই। খেতাব নিশ্চিত করতে শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া কোনও বিকল্প ছিল না আমাদের। না হলে অন্য ম্যাচে ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন হত মোহন বাগান। তবে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে গিয়ে একাধিক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় আমাদের। কেরলের মাঠের অবস্থা মোটেই খেলার উপযুক্ত ছিল না। ম্যাচের আগের দিন সেখানেই এক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। তাই মাঠের মধ্যে পেরেকও ছিল। তবে যাবতীয় প্রতিকূলতাকে জয় করে সেদিন শেষ হাসি হেসেছিলাম আমরা। ম্যাচের পর স্বপনদা (বল), নীতুদাকে (দেবব্রত সরকার) আনন্দে কাঁদতে দেখেছিলাম। আসলে সেবার লিগ শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই পল্টুদাকে (দীপক দাস) হারাই। তাই লিগ জিতে তাঁকেই উৎসর্গ করি।
এবারও ইস্ট বেঙ্গল কিছুটা একই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। আইএসএলে নাম লেখানোর পর থেকেই দল ব্যর্থতা ছাড়া কিছুই দেখেনি। তবে কোচ অস্কার দায়িত্ব নিয়ে ফুটবলারদের মধ্যে জয়ের তাগিদ সঞ্চার করতে সফল হয়েছেন। গোটা মরশুম দুর্দান্ত খেলেছে মিগুয়েল-রশিদরা। তবে আমি কিছুটা হলেও এজেজ্জারিকে বাড়তি নাম্বার দেব। ও দলে যোগ দেওয়ার থেকেই এই ইস্ট বেঙ্গলের আপফ্রন্টের ভোল বদলে যায়। শুনেছি, কুঁচকির চোট নিয়ে দিনের পর দিন সেরাটা উজাড় করে দিয়েছে আনোয়ার। শেষ পর্যন্ত ওদের এই লড়াই বিফলে যায়নি।
(ইস্ট বেঙ্গলের প্রথম জাতীয় লিগ জয়ের নায়ক)