Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাতি বিদ্বেষের প্রতিবাদ করে চাকরিহারা যুবক, পাশে মেয়র

সোমবার সকালে শিলিগুড়ির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুপাড়ায় ওই যুবকের বাড়ি গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন মেয়র।

জাতি বিদ্বেষের প্রতিবাদ করে চাকরিহারা যুবক, পাশে মেয়র
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: কর্মক্ষেত্রে জাতি বিদ্বেষের প্রতিবাদ করে অফিস কর্তৃপক্ষের হাতে আক্রান্ত ও চাকরিহারা যুবকের পাশে দাঁড়ালেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। সোমবার সকালে শিলিগুড়ির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুপাড়ায় ওই যুবকের বাড়ি গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন মেয়র। যুবককে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, পুলিশ তদন্ত করে কড়া পদক্ষেপ করবে। যে অভিযোগ উঠেছে তা কোনওমতেই বরদাস্ত করা হবে না। গোটা বিষয়টি তিনি শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে দেখতে বলেছেন।  

Advertisement

মেয়র বলেন, যে অভিযোগ উঠেছে তা আমি বিস্তারিত বলছি না। তবে বাংলায় এধরনের জাতিবিদ্বেষ, বাংলাদেশি তকমা দেওয়ার ঘটনা কোনওমতেই বরদাস্ত করা হবে না। অভিযুক্ত যত বড় ধনপতি হন না কেন।
অভিষেক সেনগুপ্ত নামে ওই যুবক শহরের স্টেশন ফিডার রোডে একটি বেসরকারি সংস্থায় এইচআর পদে কাজ করতেন। তাঁর অভিযোগ, অফিসে এক নিরাপত্তা কর্মীকে নিয়ে কর্তৃপক্ষের জাতি বিদ্বেষের প্রতিবাদ করেছিলাম। তার জেরেই কর্তৃপক্ষের রোষানলে পড়তে হয়। আমাকে বাংলাদেশি আখ্যা দেওয়া হয়। তাতে আমি চাকরি ছেড়ে দিই। তার পরের দিন প্রাতঃভ্রমণে অফিসের দুই কর্মীর হাতে আক্রান্ত হই।
এই ঘটনায় আতঙ্কে তিনি তাঁর দিদির বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা করান। সেখানে পুলিস কেস করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শিলিগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে গেলে নেওয়া হয়নি। পাল্টা হুমকি দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ অভিষেকবাবুর। 
মেয়রকে তিনি বলেন, পুলিশ কমিশনারেট অফিসে লিখিত অভিযোগ  করার পর সেখান থেকে এক এসিপি পদমর্যাদার ম্যাডামের কাছে পাঠানো হয়। তিনি সব শুনে শিলিগুড়ি থানায় যেতে বলেন। কিন্তু সেখানে উল্টে আমার বিরুদ্ধে জাতি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগের হুমকি দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর ডিসিপি রাকেশ সিংয়ের অফিসে গিয়ে আমি লিখিত অভিযোগ করি। 
পুলিসের একাংশের এই ভূমিকায় ক্ষুব্ধ মেয়র। তিনি বলেন, পুলিশ কমিশনারকে বিষয়টি দেখতে বলব। 
গত শনিবার শিলিগুড়ি পুরসভার টক টু মেয়র ফোন ইন লাইভ অনুষ্ঠানে অভিষেক সেনগুপ্ত মেয়রকে এই ঘটনা জানিয়েছিলেন। এদিন মেয়র তাঁর বাড়িতে গিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। মেয়র বলেন, আমি মেয়র বা রাজনীতির পরিচয়ের বাইরে একজন নাগরিক। আমি এখানকার ভূমিপুত্র। তাই একজন সহ নাগরিকের পাশে থাকাটা নৈতিক দায়িত্ব। বাংলাদেশি তকমা দেওয়ার ঘটনা শিলিগুড়ি সহ রাজ্যের কোথাও বরদাস্ত করা হবে না।  সে যত বড়ই হন না কেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ