Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

জন্মেছিলেন তারকা হয়েই জাকির হুসেনের স্মৃতিচারণায় পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী

জন্মেছিলেন তারকা হয়েই
জাকির হুসেনের স্মৃতিচারণায় পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
১৯৮১। ওই বছর প্রথম ওঁর সঙ্গে দেখা হয়। তার দু’বছর পর ’৮৩-তে আমরা ট্যুর করি একসঙ্গে। আমি আমেরিকা গিয়েছিলাম সঙ্গীত রিসার্চ আকাদেমির মাধ্যমে। সেখানে গিয়ে দেখি, সান ফ্রান্সিসকোতে আমার গাড়ির ড্রাইভার হচ্ছেন জাকির হুসেন! আরও অনেকে ছিলেন। সেখানে নিয়ে গিয়ে ছ’টা প্রোগ্রাম হল। সকলের সঙ্গে সঙ্গত করলেন। আমার সঙ্গে ছ’টি প্রোগ্রামেই বাজিয়েছিলেন। তারপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব। একসঙ্গে কথাবার্তা চলত, তবলার সম্পর্কে, লয় সম্পর্কে...। জাকিরজি প্রথম থেকেই জন্মেছিলেনই তারকা হয়ে। ধীরে ধীরে আইটিসি সঙ্গীত রিসার্চ আকাদেমির মাধ্যমে তাতে আরও শান দেওয়া হয়। উনি যে জায়গায় পৌঁছেছিলেন, সেখানে পৌঁছতে অন্য কাউকে অনেকদিন অপেক্ষা করতে হবে। ওঁর চিন্তাভাবনা, শিক্ষা, ধর্ম, ভালোবাসা, সেবা, এগুলো উল্লেখ করার মতো। আমি ওঁর সম্পর্কে প্রায় সবকিছু জানি। ভীষণ কাছ থেকে দেখেছি তো! যে শহরে যেতেন, সে শহরের যিনি বিখ্যাত আর্টিস্ট, তাঁর সঙ্গে দেখা করতেন, তাঁকে নজরানা দিতেন। এর অনেকগুলির সাক্ষী আমি নিজেই। আমি নিজে অনেক জায়গায় গিয়েছি। একটা কথা বললে, বুঝতে পারবেন, আমি যখন বম্বেতে প্রথম গাইতে যাই, তখন আমার গলা খারাপ হয়, উনি বললেন, তুমি একটু ওয়েট করো, আমি বিকেলে গিয়ে একটা জিনিস এনে দেব। আমি তো অপেক্ষা করছিলাম। যা এনে দিয়েছিলেন, তার আন্দাজ আগে থেকে পাইনি। বম্বে থেকে লোনাভলা গিয়ে আসল ঘি নিয়ে এসেছিলেন আমার জন্য। দুধের সঙ্গে মিশিয়ে বিকেল পাঁচটার সময় খাওয়ালেন! বিশ্বাস করা যায়? এগুলো কখনও ভোলার নয়। কোনও ঘরানার শিল্পীকে কোনওদিন অশ্রদ্ধা করতেন না। ‘শ্রুতিনন্দন’-এ বহুবার এসেছেন, আমার কন্যা-পুত্রর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছিল। আমাদের পারিবারিক বন্ধন বহুদিনের। আজকে উনি নেই, এ কথা বলতে ইচ্ছা করছে না। মনে হচ্ছে যেন উনি আছেন। শুধু চোখে দেখতে পাচ্ছি না। কোনও দিনই মনে হবে না উনি চলে গিয়েছেন। শ্রেষ্ঠ বাজনা বাজিয়ে চলে গেলেন। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ