সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: ধনেখালি ব্লকের মাকালপুর জনকল্যাণ সঙ্ঘের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও বাৎসরিক অনুষ্ঠানের শেষ দিন ছিল শনিবার। তিনদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সঙ্ঘের সভাপতি রাজশেখর সিংহ রায় ও সম্পাদক সুদীপকুমার পাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বপনকুমার হালদার, জিয়াফুল হক, কৃষ্ণচন্দ্র ঘোষ, কৃষ্ণমোহন চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। ৪২ তম বর্ষে পদার্পণ করেছে এই অনুষ্ঠান। ১৯, ২৩ ও ২৫ জানুয়ারি– এই তিনদিন চলে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী। প্রথম দিন চারটি বিভাগে আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল গীতি, রবীন্দ্রনৃত্য, লোকনৃত্য, ক্যুইজ হয়। ২৩ জানুয়ারি, দ্বিতীয় দিন অঙ্কন প্রতিযোগিতা, মুকাভিনয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৃত্যনাট্য বিদায় অভিশাপ মঞ্চস্থ হয়। ২৫ জানুয়ারি শেষ দিনের অনুষ্ঠান পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। বিকেলে সমাজ সচেতনতামূলক পদযাত্রা, পুরস্কার বিতরণী ও সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটক ছোটদের আলিবাবা সকলের মন ছুঁয়ে যায়। ১৯০৭ সালে এই সঙ্ঘের পথ চলা শুরু হয়। প্রথমে সঙ্ঘের নাম ছিল মাকালপুর ফুটবল ক্লাব। ধীরে ধীরে মাকালপুর এলাকার সমাজ কল্যাণে ব্রতী হয়ে নাম পরিবর্তন হয় মাকালপুর জনকল্যাণ সঙ্ঘ। ১৯৭৪ সালে রেজিস্ট্রেশন হয় সঙ্ঘের। বাৎসরিক অনুষ্ঠান ছাড়াও সারা বছর ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল টুর্নামেন্ট, প্রতি মঙ্গলবার চক্ষু পরীক্ষা শিবির, বসন্ত উৎসব, নেতাজি জন্মজয়ন্তী সহ বিশেষ দিনগুলি পালন করা হয়। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম স্থানাধিকারীদের সংবর্ধনা, রক্তদান শিবির ছাড়াও সঙ্ঘের সব থেকে বড় কর্মসূচি বৃক্ষরোপণ। প্রতিবার বর্ষার সময় এই কর্মসূচির সূচনা হয়। এই বছর এখনও পর্যন্ত কয়েক হাজার গাছ বসানো হয়েছে সঙ্ঘের পক্ষ থেকে।
Advertisement
সঙ্ঘের সম্পাদক সুদীপকুমার পাল জানান, ১১৮ বছর ধরে এই সংগঠন এলাকার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। এলাকার সকলের সহযোগিতায় এটা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ১৬০ জন। মাকালপুর ছাড়াও হাসনান, কাকনান, ধেমুয়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এই সঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত। হুগলি মিউজিক অ্যাকাডেমির পরিচালনায় সংগীত শিক্ষা ও মৃণাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় অঙ্কন স্কুল চলে। বাৎসরিক এই অনুষ্ঠানে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। সাত বছরের নীচে অংশগ্রহণকারীদের সকলকেই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এলাকার মানুষ সারা বছর এই দিনগুলির জন্য অপেক্ষা করে থাকে।



