Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জামা, জুতো, বালতি, ‘ছিঁচকে চোর’ আরতির   উৎপাতে বাড়ির সামনে রাখা যেত না কিছুই!

জামা, জুতো, বালতি, ‘ছিঁচকে চোর’ আরতির   উৎপাতে বাড়ির সামনে রাখা যেত না কিছুই!
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মধ্যমগ্রাম শহরের একেবারে শেষ প্রান্তে দক্ষিণ বীরেশপল্লি। এই এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকত পিসিশাশুড়িকে খুন করে দেহ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে ধৃত মা আরতি ঘোষ ও মেয়ে ফাল্গুনী ঘোষ। তাদের গ্রেপ্তারির খবর জানাজানি হতেই এলাকাবাসী যেন হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে! তাঁরা বলছেন, ‘বাড়ির সামনে থেকে পোশাক বা ফুলের টব বা জুতো উধাও হয়ে যাওয়াটা এবার অন্তত বন্ধ হবে। বাইরে থেকে আসা ছেলেমেয়েদের আনাগোনাও কমবে।’ ধৃত মা-মেয়ে যে বাড়িতে থাকত, সেখানে আর কাউকে ভাড়া না দেওয়ার দাবিতেও সরব হয়েছেন প্রতিবেশীরা। 
Advertisement
মধ্যমগ্রাম পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বীরেশপল্লিতে স্বপন দাসের বাড়িতে ভাড়া থাকত মা-মেয়ে। মধ্যমগ্রামের অন্যান্য জায়গার তুলনায় ওই এলাকা অনেকটাই নিরিবিলি। মূলত চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীদের বসবাস।  ফাল্গুনী সকাল সকাল বারাসত আদালতে চলে যেত কাজের জন্য। বাড়িতে তার মা একাই থাকত। অভিযোগ, দুপুরে সবাই যখন কর্মস্থলে ব্যস্ত, সেই সময়কে ‘টার্গেট’ করে পাড়ার কারও বাড়ি থেকে ফুলের টব, কারও বাড়ি থেকে দামি পোশাক, জুতো চুরি করত আরতি। তার আগে এলাকা ‘রেকি’ করত সে। আটপৌরে পোশাক পরে ঘুরে বেড়াত। উদ্দেশ্য ছিল ছোটখাটো জিনিস চুরি করে পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে বাড়ি নিয়ে আসা। 
দক্ষিণ বীরেশপল্লির বাসিন্দা সৌমাল্য চট্টরাজ বলেন, ‘কয়েকমাস আগে আমাদের বাড়ির কাছে গিয়ে ঘোরাঘুরি করছিল আরতি। বাড়ির সামনে কয়েকটি টবে দামি গাছ বসানো ছিল। তখনই আমার ধারণা হয়েছিল, গাছগুলি চুরি করতে এসেছে ও। আমি তখনই বাইরে বেরিয়ে আসায় চলে যায়।’ তাদের পড়শি ঋতুপর্ণা ঘোষ বলেন, ‘মা ও মেয়ে মোটেই ভালো নয়। মেয়ে সকালে কাজে চলে যেত, আর মা বের হতো চুরি করতে। পোশাক, ফুলের গাছ থেকে শুরু করে বালতি, জুতো— কিছুই চুরি করতে ছাড়ত না। গাছের ফলও নির্দ্বিধায় গায়েব করে দিত। একাধিকবার সে ধরাও পড়ে। কিন্তু ছিঁচকে চোর বলে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। কিন্তু বিষয়টি দিনে দিনে আমাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এর জন্য আমরা ওদের বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষরও করে জমা দিয়েছিলাম। এতদিনে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।’ স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মামনি রায়ের কথায়, ‘আমাদের এলাকায় একেবারে নিরিবিলি। সেই সুযোগে আরতি এইসব করে বেড়াত। ওর জ্বালায় বাইরে কিছু রাখা যেত না। এলাকায় সিসি ক্যামেরা না থাকায় সাহস পেয়ে গিয়েছিল।’ বাড়ি মালিক স্বপন দাসের বক্তব্য, ‘একেবারেই অনভেপ্রিত ঘটনা ঘটেছে। আর আমি এই বাড়ি কাইকে ভাড়া দেব না বলেই ভাবছি।’
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ