দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের বাজেটেই জল জীবন মিশন (জেজেএম) কর্মসূচির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাধের সেই জল জীবন মিশন কর্মসূচি নিয়েই সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হল জলশক্তি মন্ত্রককে। এই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মসূচিতে বরাদ্দকৃত অর্থ ঠিকমতো খরচই হয় না। তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়িত কীভাবে হবে? জল জীবন মিশন নিয়ে এভাবেই কেন্দ্রকে তুলোধোনা করেছে বিজেপি সাংসদ রাজীবপ্রতাপ রুডির নেতৃত্বাধীন জলসম্পদ সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সোমবারই ডিমান্ডস-ফর-গ্রান্টস সংক্রান্ত রিপোর্ট সংসদে পেশ হয়েছে। তাতেই এই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মসূচির বাস্তব ছবি সামনে এসেছে। ওই রিপোর্টে সংসদীয় কমিটি সুপারিশ করেছে, যে রাজ্যগুলি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারছে না, তাদের সহযোগিতা করা কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তাই ওইসব রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে চলার ব্যাপারে আরও বেশি জোর দিতে হবে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, জল জীবন মিশন কর্মসূচির রূপায়ণের ক্ষেত্রে জাতীয় হারের থেকেও খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে একাধিক ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রিপোর্টে তা উল্লেখ হয়েছে। এই বিষয়েও কেন্দ্রকে কড়া নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, এবারের বাজেট ঘোষণায় জেজেএমের মেয়াদ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সীতারামন জানিয়েছিলেন, এই কর্মসূচির আওতায় গ্রামাঞ্চলের ৮০ শতাংশ বাড়িতে নলবাহিত বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।
Advertisement
সংসদে পেশ করা রিপোর্টে স্থায়ী কমিটি সাফ জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে জল জীবন মিশন কর্মসূচির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মোটেও উৎসাহব্যঞ্জক নয়। চলতি আর্থিক বছরে এই খাতে ৭০ হাজার ১৬২ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু গত ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে মাত্র ২১ হাজার ৫৫৪ কোটি ৯ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। যে ছ’টি রাজ্যের পরিস্থিতি তার মধ্যে বিজেপি শাসিত নয় দু’টি। একটি ঝাড়খণ্ড, অন্যটি কেরল। চারটি বিজেপি ও জোট শাসিত রাজ্য হল মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ।



