নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: লোকসভা, বিধানসভা থেকে পঞ্চায়েত বা পুরসভা, সাম্প্রতিক প্রত্যেকটি নির্বাচনে পর্যুদস্ত হয়েছে সিপিএম। শত চেষ্টার পরও ‘হেরো’ তকমা মুছতে পারছে না তারা। কিন্তু এই অবস্থায়ও সিপিএমের অন্দরে কোন্দল বেআব্রু হয়ে চলেছে। সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্মেলন যার সর্বশেষ উদাহরণ! কে হবেন দলের জেলা সম্পাদক, তা নিয়ে বারাসতের রবীন্দ্রভবনে আয়োজিত সম্মেলনে শুরু হয়েছে বেনজির কাজিয়া। পরিস্থিতি যে দিকে এগচ্ছে, তাতে জেলা সম্পাদক ঠিক করতে ভোটাভুটির পথে হাঁটতে হতে পারে সিপিএমকে। তা যে দলের কাছে যথেষ্ট অস্বস্তির, মানছেন নেতাকর্মীরা। তাছাড়া, সম্মেলনে সিপিএমের জোট রাজনীতির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন জেলার একাধিক প্রথম সারির নেতা। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারও কাল হয়েছে বলে মনে সম্মেলনে নেতারা উল্লেখ করছেন বলে খবর। সিপিএম সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্মেলনের শুরুতেই তাল কাটে জেলা সম্পাদক পদ নিয়েই। একটি অংশ জেলা সম্পাদক হিসেবে পলাশ দাসকে চাইছে। অন্য একটি অংশ মৃণাল চক্রবর্তীকেই ফের ওই পদে রেখে দিতে চাইছে। এ নিয়েই শুরু হয় মতানৈক্য। তবে, পলাশবাবুর পাল্লা কিছুটা হলেও ভারি বলে খবর। ওই ‘লবি’র যুক্তি, মৃণালবাবু অসুস্থ। প্রতিবাদ বা গণ আন্দোলন তৈরির ক্ষেত্রে তাঁকে সক্রিয়ভাবে পাওয়াই যায় না। উল্টোদিকে, পলাশের বয়স কম। তাই, তাঁকেই সম্পাদক করতে চাইছে আরেকটি ‘লবি’। কেউ চাইছেন গ্রামীণ এলাকার নেতাকে সম্পাদক করা হোক, কেউ শহরের উপর জোর দিতে চাইছেন। ‘লবি’র লড়াইয়ে জেরবার লালপার্টি। শেষ পর্যন্ত সম্পাদক কে হবেন, তা আজই চূড়ান্ত হবে।



