Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে বনবিভাগের প্রচারেও থামছে না জঙ্গলে আগুন লাগানো, ধ্বংস হচ্ছে বন্যপ্রাণ 

ঝাড়গ্রামে বনবিভাগের প্রচারেও থামছে না জঙ্গলে আগুন লাগানো, ধ্বংস হচ্ছে বন্যপ্রাণ 
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: বনবিভাগের লাগাতার জনসচেতনতা মূলক প্রচার সত্ত্বেও থামছে না জঙ্গলে আগুন লাগানো। আগুনে পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে শাল গাছ। ইতিমধ্যে পুড়ে গিয়েছে ঝাড়গ্রামের লোধাশুলি রেঞ্জের লোধাশুলি বিটের মোহনপুর জঙ্গলের খামানডাহির কয়েকশো শাল গাছ। বিষয়টি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে ঝাড়গ্রাম বনবিভাগ। আগুন লাগানোর ঘটনা নিয়ে বনবিভাগ থেকে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। জঙ্গলের আগুন লাগানো আটকাতে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন ঝাড়গ্রামের এডিএফও বলরাম পাঁজা। তিনি জানান, জঙ্গলে যাতে কেউ আগুন না লাগায় তার জন্য বনবিভাগ থেকে সারা বছরই সচেতনতামূলক প্রচার করা হয়। এই সময় জঙ্গলের শালপাতা শুকিয়ে নীচে পড়ে থাকে। আগুন লাগানোর ঘটনা বেশি ঘটে। ফলে এই সময় একটু বেশি পরিমাণে প্রচার করা হয়। মোহনপুরের জঙ্গলে আগুন লাগানোর ঘটনা নিয়ে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। মানুষজন সচেতন না হলে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
Advertisement
প্রসঙ্গত বসন্তকালে জঙ্গলের শালগাছের পাতা ঝরে পড়ে। গাছের নীচে শুকিয়ে জড়ো হয়ে থাকে। বনবিভাগের বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়ার পরেও বিভিন্ন জঙ্গলে এই সময় আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা আটকাতে বিভিন্ন রেঞ্জ এলাকায় মাইকিং, ফায়ার লাইন মজুত ও স্যাটেলাইট মনিটরিং মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে বনবিভাগ। তথাপি ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে মোহনপুর জঙ্গলের খামানডাহিতে বিস্তীর্ণ শাল জঙ্গলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুনে মরে গিয়েছে বহু শালগাছ। আগুন লাগানোর ফলে শালগাছের ক্ষতির সঙ্গে হাতি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী জঙ্গলে নিরাপদে থাকতে পারছে না। আগুনের থেকে বাঁচতে দিনের আলোয় তারা জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসছে। আগুনে জঙ্গলের কীটপতঙ্গ ও ছাতুর রেনু পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন বনদপ্তর। বনবিভাগ থেকে বার বার সচেতনতামূলক প্রচারে জানানো হয়েছে, জঙ্গলে আগুন লাগানোর ঘটনায় কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে ফরেস্ট অ্যাক্টে তার সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড হতে পারে। সেই সঙ্গে ‘ভারতীয় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন ১৯৭২’ অনুযায়ী জীবজন্তু হত্যায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অভিযুক্ত হলে তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হতে পারে। এই নিয়ে ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমামকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেরও উত্তর দেননি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ