সংবাদদাতা, কল্যাণী: হরিণঘাটায় অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত তিন। শনিবার রাতে জাগুলি মোড়ের কাছে সিমহাটে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর দুর্ঘটনাটি ঘটে। দু’জন মহিলা ও একজন পুরুষ মৃত। তাঁদের নাম, নোহারি বিবি (৫০), মন্তাহারা বিবি (৩০) ও আন্তারুল শেখ (২০)। নোহারি ও আন্তারুল সম্পর্কে মা-ছেলে। শাহাদাত শেখ অ্যাম্বুলেন্সের চালক। তাঁর পাশে বসেছিলেন আলম শেখ। তাঁরা দু’জনেই গুরুতর আহত। সুখিনা বিবি নামে ক্যান্সারের এক রোগীর চিকিৎসার জন্য তাঁরা আসছিলেন কলকাতা। রোগী সুখিনা বিবিও আহত। তাঁরা ঝাড়খণ্ডের পাকুর এলাকার বাসিন্দা। পুলিস লরি আটক করেছে। আটক খালাসিও। চালক পলাতক। তদন্ত শুরু করেছে হরিণঘাটা থানা।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের নওদা থেকে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য কলকাতার দিকে যাচ্ছিল অ্যাম্বুলেন্সটি। জাতীয় সড়কে সিমহাট ব্রিজের কাছে মেরামতের কাজ হচ্ছে। সে জন্য রাস্তার একটি লেন বন্ধ রাখা হয়েছিল। খোলা ছিল পাশের একটি রাস্তা। সেই রাস্তাটিতে জ্যামজট থাকায় রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ রানাঘাটের দিক থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্সটি দ্রুত যেতে উল্টো দিকের লেনে ঢোকে। ঠিক সে সময় ওই রাস্তা দিয়ে কলকাতার দিক থেকে আসছিল একটি লরি। সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের বিকট শব্দে আশপাশ এলাকার বাসিন্দারা ছুটে আসে। ঘটনাস্থলের ঢিল ছোড়া দূরত্বে মোহনপুর ফাঁড়ি। সেখান থেকে পুলিস দুর্ঘটনস্থলে আসে। অ্যাম্বুলেন্সটি সংঘর্ষের তীব্রতায় দুমড়ে যায়। ভিতর থেকে চালক সহ সাতজনকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে। চিকিৎসক তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। একজন বাদে বাকি তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। রোগী সুখিনা কল্যাণীর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রবিবার পরিবারের সদস্যরা ঝাড়খণ্ড থেকে কল্যাণী আসেন। মৃতা নোহারি বিবির স্বামী ও আন্তারুল শেখের বাবা আলিম শেখ বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ।’



