নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বালি বোঝাই ট্রাক থেকে মাসোহারা আদায়ের ঘটনায় রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার হাতে ধৃত ঝাড়গ্রাম থানার কনস্টেবলের মামলার তদন্তে এবার ডাক পড়ল ওই থানার আইসির। চলতি সপ্তাহেই তাঁকে দুর্নীতি দমন শাখার অফিসে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। কনস্টেবল রতন প্রামাণিকের তোলা তোলার বিষয়টি আইসি জানতেন কি না কিংবা কোনো অভিযোগ পেয়েছিলেন কি না, সেই বিষয়টি তাঁর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিন্ত হতে চান তদন্তকারীরা। ঝাড়গ্রাম থানার আইসি ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, তাঁকে ডেকে পাঠালে ওই কনস্টেবল কতদিন রয়েছেন, কী করেছেন সবটাই জানিয়ে আসবেন।
ট্রাফিক গার্ডের হয়ে মাসোহারা তোলার ঘটনায় ধৃত সঞ্জীব নন্দী মাসে দশ লক্ষ রোজগার করতেন। তার একটা বড়ো অংশ পাঠাতেন গার্ডের অফিসার ও পুলিশ কর্মীদের কাছে। তদন্তে নেমে এই তথ্য পাচ্ছেন অফিসাররা। তদন্তকারীরা তাঁর মোবাইল পরীক্ষা করে জেনেছেন যে সমস্ত গাড়ির নো এন্ট্রিতে এবং একমুখী রাস্তায় চলাচলের অনুমতি ছিল তার প্রত্যেকটির নম্বর লেখা ছিল। একইসঙ্গে গাড়ির চালক ও মালিকদের নম্বরের তালিকা করে রেখেছিলেন। কার কবে পেমেন্টের তারিখ সেটিও উল্লেখ করা রয়েছে। সেই অনুযায়ী চালক বা মালিকদের ফোন করে টাকা অনলাইনে পাঠাতে বলত অভিযুক্ত সঞ্জীব। এই তথ্য ঘেঁটে অফিসাররা জানতে পারেছেন সমস্ত জেলা ও কলকাতা মিলিয়ে এই ধরনের গাড়ির সংখ্যা ছিল আড়াইশো থেকে তিনশোর মতো। এর সঙ্গে ছিল ভিন রাজ্যের ট্রাক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মান্থলি হিসাবে হাজার দশেক টাকা পর্যন্ত নিয়েছে অভিযুক্ত। এই সিন্ডিকেটে সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিল সঞ্জীব। তার সঙ্গে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে হাওড়া, বিধাননগর ও বারুইপুরের সমস্ত গার্ডের অফিসার ও পুলিশ কর্মীদের একটা বড়ো অংশের পরিচয় ছিল। তার কাছেই সবথেকে বেশি ট্রাকের মান্থলি করা ছিল বলে খবর। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের হাতে আসা হিসাব অনুযায়ী, মাসে অন্তত দশ লক্ষ টাকা রোজগার করত সঞ্জীব। এই টাকার আনুমানিক ৫৫ শতাংশ যেত বিভিন্ন ট্রাফিক গার্ডে। কোন গার্ডে কাকে টাকা দিয়েছে তার তালিকাও অভিযুক্তের কাছ থেকে মিলেছে বলে খবর। এই সমস্ত পুলিশ কর্মীদের সকলকেই ডাকা হবে।