Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কালীপুজোর আগে অলক্ষ্মী বিদায়ের জন্য দেদার ঝাঁটা বিক্রি ঝাড়গ্রামে

ঝাড়গ্রামে অলক্ষ্মী বিদায়ে ঝাঁটা কেনার প্রথা দীর্ঘদিনের। তাই ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন হাটবাজার ও পাড়ার দোকানে এখন দেদার ঝাঁটা বিক্রি হচ্ছে।

কালীপুজোর আগে অলক্ষ্মী বিদায়ের জন্য দেদার ঝাঁটা বিক্রি ঝাড়গ্রামে
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে অলক্ষ্মী বিদায়ে ঝাঁটা কেনার প্রথা দীর্ঘদিনের। তাই ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন হাটবাজার ও পাড়ার দোকানে এখন দেদার ঝাঁটা বিক্রি হচ্ছে। সেইসঙ্গে কালীপুজোর আগে আস্তাকুঁড়ের অপদেবী ‘যুগিনী’কে তাড়াতে পুরনো ঝাঁটা ও জঞ্জাল পোড়ানো হয়। এই প্রথাও ঝাড়গ্রামের কিছু এলাকায় টিকে আছে। কার্তিক মাসের অমবস্যা তিথিতে অলক্ষ্মী বিদায় হয়। এজন্য ঝাঁটা কেনার প্রথা রয়েছে। লৌকিক বিশ্বাস অনুযায়ী, ঝাঁটা কেনা হলে ঘরের সমস্ত অমঙ্গল দূর হয়ে যায়। সেইসঙ্গে এসময় অপদেবী যুগিনীকে তাড়ানোর প্রথাও রয়েছে। লৌকিক বিশ্বাস, গ্রামের শেষপ্রান্তে আস্তাকুঁড়ে অপদেবী যুগিনী বাস করেন। তাই কালীপুজোর আগে আস্তাকুঁড়ের জঞ্জালে পুরনো ঝাঁটা ফেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়াই রীতি। এই প্রাচীন প্রথা এখন জেলায় বিলুপ্তির মুখে। তবে কিছু গ্রামীণ এলাকায় প্রথাটি এখনও টিকে রয়েছে।

Advertisement

ঝাড়গ্রাম শহর তথা জেলার বিভিন্ন বাজারে খাড়াং, ফুলঝুরি, নারকেল, খেজুরপাতার ঝাঁটা বিক্রি হচ্ছে। ২০-৬০টাকা দামের ঝাঁটা পাওয়া যাচ্ছে। ঝাঁটায় খুঁত থাকলে তা দিয়ে অলক্ষ্মী বিদায় করা যায় না। তাই ঝাঁটার কাঠি ভাঙা আছে কিনা-তা ক্রেতারা পরখ করে নিচ্ছেন। শহরের কোর্ট রোডের আদিবাসী মার্কেটের ঝাঁটা বিক্রেতা সীতারাম হেমব্রম বলেন, এখন অনেকেই ঝাঁটা কিনতে আসছেন। শহরের তুলনায় গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেই ঝাঁটা কেনার ঝোঁক বেশি। ঝাড়গ্রাম ব্লকের সাপধরার প্রবীণ বাসিন্দা গোবিন্দ মাহাত বলেন, আগে এলাকায় অপদেবী যুগিনী তাড়াতে আস্তাকুঁড়ে পুরনো ঝাঁটা ফেলে আগুন ধরানো হতো। এখন প্রথা মেনে বাড়ির খোলা জায়গায় জঞ্জালে আগুন ধরিয়ে দিই। আঞ্চলিক গবেষক মধুপ দে বলেন, বর্ষার শেষ ও শীতের শুরুতে পোকামাকড়ের উৎপাত ও জীবাণুর সংক্রমণ বাড়ে। সেজন্য এসময় গ্ৰাম ও  ঘরদোর পরিষ্কার রাখার চল রয়েছে। সেকারণেই ঝাঁটা কেনার লৌকিক প্রথার উদ্ভব বলে মনে করা হয়।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ