নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রী, দু’জনেই কর্মক্ষেত্রে চলে গিয়েছেন। পরিচারিকা গিয়েছিলেন দম্পতির ছেলেকে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে। বাড়ি ফিরেই পরিচারিকার চক্ষু চড়কগাছ। গেট ও দরজার তালা ভাঙা। ঘর লণ্ডভণ্ড। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জামাকাপড়, বাসনপত্র। আলমারির লক ভাঙা। ভিতর থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে যাবতীয় অলংকার। ফোন করে গৃহকর্ত্রীকে খবর দেন পরিচারিকা।
মঙ্গলবার ভরদুপুরে বাঁশদ্রোণী থানা এলাকায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, জয়শ্রী পার্কের কাছে একটি বাড়ি ফাঁকাই ছিল। সেই সুযোগেই দুষ্কৃতীরা হানা দেয়। পরিচারিকার কাছ থেকে খবর পেয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরে আসেন গৃহকর্তা ও তাঁর স্ত্রী। তাঁদের অভিযোগ, আলমারিতে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার সোনার গয়না ছিল। পুরোটাই হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। কিছু নগদও ছিল। অভিযোগ, সেই টাকাও চুরি করেছে অভিযুক্তরা। বাঁশদ্রোণী থানায় বাড়ির তালা ভেঙে লুটপাট চালানোর লিখিত অভিযোগ করেছেন বাড়ির মালিক। লালবাজার সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের খবর, অভিযোগে পেয়েই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাঁশদ্রোণী থানার তদন্তকারী অফিসাররা। এলাকারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ। বাড়ির চারপাশের সবকটি রাস্তার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এখন তদন্তকারীদের স্ক্যানারে। যে জায়গায় ঘটনাটি ঘটেছে, তা অত্যন্ত জনবহুল। ভরদুপুরে জনবহুল এলাকায় ‘অপারেশন’ চালানোর সাহস পেল কী করে দুষ্কৃতীরা? তাহলে কি সেই সময় বাড়ি ফাঁকা থাকার তথ্য আগে থেকেই ছিল তাদের কাছে? কেউ কি তাদের ‘টিপ’ দিয়েছিল? সে কারণেই বাড়ির পরিচারিকা ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ঘটনার সঙ্গে বাড়ির বাসিন্দাদের পরিচিত কেউ জড়িত। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, দুষ্কৃতীরা গোটা এলাকার রেকি চালিয়েই এই অপারেশনে নেমেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন উর্দিধারীরা।