নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজো ঘিরে এবার চিৎপুর যাত্রাপাড়া পেল ঠাসা বুকিং। কিন্তু ঝড়জলের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন অপেরা কর্তারা। তাঁদের বক্তব্য, একটু ভারী বৃষ্টি হলেই গ্রামবাংলায় যাত্রাপালা শো বাতিল হয়ে যায়। তাই পুজোর দিনে আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা নিয়েই প্রহর গুনছেন এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত লোকজনেরা। চিৎপুর যাত্রাপাড়ায় ৫০টির বেশি অপেরা। পুজো উপলক্ষ্যে প্রতিটি অপেরাই এবার ভালো বুকিং পেয়েছে। তার মধ্যে বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দুই মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা থেকে বুকিং পাওয়া গিয়েছে সবচেয়ে বেশি। যাত্রাপালা শুরু মূলত ষষ্ঠীর দিন থেকেই। হাতে মাত্র বাকি কয়েকটা দিন। কিন্তু যেভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তাতে মাঠেঘাটে জল জমলে শো বাতিল করা ছাড়া উপায় নেই।
পশ্চিমবঙ্গ যাত্রা সম্মেলনের দুই কর্তা গৌতম নন্দী ও কনক ভট্টাচার্য জানান, বিভিন্ন জেলায় এবার দুর্গাপুজো থেকে জগদ্ধাত্রীপুজো পর্যন্ত মিলেছে যাত্রাপালার অনেক বুকিং। কিন্তু এখনও প্রতিদিন যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে পুজোর দিনগুলিতে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কলাকুশলীরা ভীষণই চিন্তিত। কারণ একদিনের শো বন্ধ হলে ক্ষতি হয়ে যায় বহু টাকার।
তাঁরা জানান, গতবছরের তুলনায় এবার প্রথম থেকেই যাত্রাপালার বুকিং ভালো। ইতিমধ্যে যে সমস্ত যাত্রাপালার বুকিং মিলেছে তা অধিকাংশই পুজোর দিনগুলির জন্য। কোথাও কোথাও অবশ্য লক্ষ্মী, কালী এবং জগদ্ধাত্রী পুজোকে ঘিরেও মিলেছে ভালো বুকিং। যাত্রাপাড়া সূত্রের খবর, মূলত ষষ্ঠীর দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় গ্রামবাংলার বিভিন্ন সংগঠন ও পুজো প্যান্ডেলে যাত্রাপালা। গত পুজোর মরশুমে চিৎপুর যাত্রাপাড়ায় বিভিন্ন অপেরা কর্তৃপক্ষের ভালোই লক্ষ্মীলাভ হয়েছিল। এবারও পুজো উপলক্ষ্যে রথযাত্রা, জন্মষ্টমীতেই বুকিং শুরু হয়েছিল জোর কদমে। কথা হচ্ছিল অপেরা কর্তা তাপসকুমার দাসের সঙ্গে। তিনি জানান, এবার তাঁর অপেরাও পুজোয় ভালো বায়না পেয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে শো বাতিল করতে হলে তো আমাদের মাথায় হাত পড়বে! যাত্রাশিল্পী সুদীপ্তা চক্রবর্তী, পুবালি বসু, প্রদীপকুমার দে-র বক্তব্য, এই শিল্পের সঙ্গে আমাদের রুটিরুজি অনেকটাই নির্ভর করে। পুজোর মরশুমটার দিকেই আমরা সারাবছর তাকিয়ে থাকি। সেক্ষেত্রে বৃষ্টি-বাদলের জন্য শো বাতিল হলে আমরাই আর্থিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হব। তাই পুজোর দিনগুলির পরিস্থিতি কী হয়, তা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ থাকছেই।