মুম্বই: রোহিত শর্মা, অজিঙ্কা রাহানে, শার্দূল ঠাকুর, অভিষেক নায়ার! শুক্রবার ওয়াংখেড়েতে একফ্রেমে ধরা পড়লেন চার মুম্বইকর। অথচ, রবিবার আরব সাগরের পাড়ে এঁরাই মুখোমুখি। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বড় ভরসা রোহিতকে শুরুতেই ফেরানোর পরিকল্পনা থাকবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের কোচ অভিষেক নায়ারের। আর রাহানের স্টাম্প ছিটকে দিতে বল হাতে দৌড়ে আসবেন শার্দূল। কোটিপতি লিগের সেই হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ যদিও উধাও। বরং নাইট ক্যাপ্টেনকে দেখা গেল হাসিমুখে ক্রিকেট আড্ডায় মশগুল।
আরও মজার ছবি দেখা গেল সূর্যকুমার যাদব ও রিঙ্কু সিংয়ের আলাপচারিতায়। রিঙ্কুকে জড়িয়ে ধরে ক্যামেরার দিতে তাকিয়ে স্কাই বললেন, ‘কেকেআরের ভাইস-ক্যাপ্টেন।’ তারপর টুপি খুলে সেলামের ভঙ্গিও করলেন। রিঙ্কুর মুখে তখন হাসি। সেটাই আরও চওড়া হল সূর্য যখন বললেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে চাই ও যেন সফল হয়।’
দুই শিবিরেই রয়েছেন ক্যারিবিয়ানরা। তাঁদের মিলনমেলাও কম আকর্ষণীয় হল না। নাটেদের ‘পাওয়ার কোচ’ আন্দ্রে রাসেল এগিয়ে এলেন আর এক বিগ হিটার কিয়েরন পোলার্ডের দিকেও। তিনি আবার মুম্বইয়ের অন্যতম সাপোর্ট স্টাফ। দু’জনে হাত মেলালেন। তবে নাইটদের মেন্টর ডোয়েন ব্রাভো প্রথমে হাত মেলালেন, তারপর ভারতীয় কায়দায় প্রণাম করার মতো পোলার্ডের বাঁ পা স্পর্শ করলেন। সরে গিয়েও তা এড়ানো গেল না। তারপর দু’জনেই মাতলেন উচ্ছ্বাসে।
মুম্বই ড্রেসিং-রুমেও দেখা গেল খুনসুটির আবহ। চেয়ারে বসে চুলে হাত বোলাচ্ছিলেন শার্দূল। ফটোশুটের জন্য একদম পরিপাটি দেখাচ্ছিল ‘লর্ড’কে। কোথা থেকে এসে রোহিত পুরো ঘেঁটে দিলেন চুল। একবারে হল না, কয়েক সেকেন্ড পর ফের দু’হাত দিয়ে টানতে থাকলেন শার্দূলের মাথা। বেচারি আর কী করবেন। মুখে করুণ হাসি লেগে রইল তাঁর।
অবশ্য মুম্বই শিবিরের এমন হাসিঠাট্টার কারণও রয়েছে। যশপ্রীত বুমরাহ যে এদিনই যোগ দিলেন শিবিরে। গত কয়েকদিন ধরেই ছিলেন বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সেলেন্সে। রবিবার নাইটদের বিরুদ্ধে তাঁর খেলা নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। এদিন তাঁর শিবিরে আসা অবশ্যই মুম্বই সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলছে। তবে তিনি খেলবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। এমনিতেই মুম্বইয়ে শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্যের হার রীতিমতো কম। এই ম্যাচটা যতই কিং খান জিততে মরিয়া থাকুন না কেন, তাঁর মুখে হাসি ফোটাতে সেভাবে পারা যায় না। বুমরাহ রবিবার খেললে সেই সম্ভাবনা আরও কমবে।