নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মিচিহিরো কাতা (৭৫) নামে এক জাপানি নাগরিক ভর্তি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। বর্তমানে তিনি সেখানকার সুপার স্পেশালিটি ব্লকের (এসএসবি) তিনতলায় ভর্তি।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মিচিহিরো কাতা (৭৫) নামে এক জাপানি নাগরিক ভর্তি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। বর্তমানে তিনি সেখানকার সুপার স্পেশালিটি ব্লকের (এসএসবি) তিনতলায় ভর্তি।
মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে খবর, জুন মাসের শেষদিক থেকে তিনি ভর্তি ছিলেন মুকুন্দপুরের এক নামকরা বেসরকারি হাসপাতাল। শেষমেশ তাঁকে আর রাখতে চায়নি তারা। মুকুন্দপুরের সেই হাসপাতাল থেকেই রেফার করা হয়েছে ওই জাপানি বৃদ্ধকে। তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তিনি পাকস্থলির ক্যান্সারে ভুগছেন।
এদিকে, এই জাপানি নাগরিকের বিস্তারিত পরিচয়, আত্মীয়-বন্ধু-স্বজন কারও খোঁজখবর, ফোন নম্বর কিছুই নেই মেডিক্যাল কলেজের হাতে। ফলে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে, কাকে জানানো হবে— তা নিয়ে রীতিমতো ফাঁপরে পড়েছে হাসপাতাল। সমস্যা এখানেই থেমে নেই। বাংলাদেশ সহ বিদেশি নাগরিকদের চিকিৎসায় মাসকয়েক আগে রাজ্য সরকার নয়া এসওপি প্রকাশ করেছে। সেই এসওপি অনুযায়ী চিকিৎসার জন্য বেশ কিছু জরুরি ও বৈধ কাগজপত্র থাকা জরুরি। একদিকে রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক, অন্যদিকে তাঁর কোনও পরিজনের খোঁজখবর না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। মেডিক্যালের সুপার তথা উপাধ্যক্ষ ডাঃ অঞ্জন অধিকারী বলেন, একজন জাপানি নাগরিক ভর্তি রয়েছেন আমাদের হাসপাতালে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি এর আগে মুকুন্দপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কিন্তু, কেন ওই বিদেশি নাগরিককে আর রাখল না ওই বেসরকারি হাসপাতাল? বিল মেটানোর কেউ নেই বলে? ওই হাসপাতালের এক পদস্থ কর্তার দাবি, একেবারেই তা নয়। এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ওই বৃদ্ধকে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আমরা তাঁর কোনও প্রিয়জন বা বন্ধুকে পাইনি। তিনি বিদেশি নাগরিক। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি বা অন্য কোনও বিপদে কার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করব— এই চিন্তা থেকেই স্বাস্থ্যদপ্তর, স্বাস্থ্য কমিশন সহ বিভিন্ন সরকারি জায়গায় যোগাযোগ করি। তারাই মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। পাশাপাশি ওই ব্যক্তির চিকিৎসার বকেয়া বিলের কথাও স্বীকার করেছেন তিনি।
সূত্রের খবর, ২৫ জুন দেশের একটি বড় বেসরকারি হাসপাতাল গোষ্ঠীর মুকুন্দপুরের ইউনিটে ভর্তি হন মিচিহিরো। ২২ জুলাই মেডিক্যাল কলেজকে চিঠি পাঠায় ওই বেসরকারি হাসপাতাল। তারা দাবি করে, স্বাস্থ্য কমিশনের মধ্যস্থতায় এই রোগীকে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জন্য পাঠানো হবে। সেজন্য সর্বতো সাহায্যের আর্জি জানায়। এরপরই ২৪ জুলাই রোগীকে মেডিক্যালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে স্বাস্থ্য কমিশনের সেক্রেটারি আরশাদ ওয়ারসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি
ফোন ধরেননি।